অতিবর্ষণে নষ্ট পেঁয়াজ চাষ মহারাষ্ট্রের চাষিদের মাথায় হাত

রাজন্যা নিউজ ব্যুরো

অতিবর্ষণে বিঘের পর বিঘে জমির পেঁয়াজের ফলন নষ্ট হয়েছে। মহারাষ্ট্রজুড়ে পেঁয়াজ চাষিদের মাথায় হাত। রাজ্য সরকার ™রিস্থিতি মোকাবিলায় উদাসীন বলে অভিযোগ উঠছে। সুদামা নামে একজন পেঁয়াজ চাষি বললেন, ‘এবছর পেঁয়াজ চাষের জন্যে ৬৬ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম। উপযুক্ত দাম না পেয়ে সাড়ে সাত কুইন্টাল পেঁয়াজ ৬৬৪ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি। পেঁয়াজ চাষিদের অনেকে কেজি প্রতি ২টাকা কিংবা ৩ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছেন।’
সুদামার মতো মাথায় হাত অন্য পেঁয়াজ চাষিদের। দাম তলানিতে এসে ঠেকায় পেঁয়াজ চাষিরা মনে করছেন, বিক্রি করার চেয়ে ফসল নষ্ট করে দেওয়া উচিত কাজ হবে। এতে অন্তত বিক্রির জন্যে পেঁয়াজ বাজারজাত করতে পরিবহন খরচ বাঁচবে। মহারাষ্ট্রে কতজন পেঁয়াজ চাষি আছেন, এনিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। ফলে পরিস্থিতি জটিলাকার ধারণ করেছে।
শুধু পেঁয়াজ নয়, অবিশ্রান্ত বর্ষণে আলু, টম্যাটো, সয়াবিনের চা¡ও ক্ষতিগ্রস্ত। ক্ষেতেই নষ্ট হয়েছে ফসল। এবছর মহারাষ্ট্রে দিওয়ালির আন¨ ম্লান। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে। কৃষক পরিবারগুলির সদস্যদের প্রদীপ জ্বালানোর মতো মানসিকতা নেই। মনমরা তাঁরা। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক জানালেন, কেজি প্রতি ৩ টাকায় তিনি ৩৯৩ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। ২ টাকায় বিক্রি করেছেন ২০২ কেজি পেঁয়াজ। এদিকে পরিবহণ খাতেই খরচ হয়েছে ১ হাজার ৬৫ টাকা। সারা বছর আশায় থাকার পরে লাভ যৎসামান্য।
মহারাষ্ট্রের বাজারগুলিতে এখন উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাতে উৎপাদিত আলু পেঁয়াজ ঢালাওভাবে বিক্রি হচ্ছে। সূত্রের খবর, প্রতি কেজি আলু ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজ্যের কৃষকদের বক্তব্য, গত বছরে পেঁয়াজের দাম বেড়েছিল। আন্তর্জাতিক চালান বন্ধ করতে সেসময় সরকার পেঁয়াজ রফতানি নিষিদ্ধ করায় চাষিরা লাভের মুখ দেখতে পাননি। বিধিনিষেধ সরকার যখন প্রত্যাহার করেছে, বাজার হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে তখন।
সূত্রের খবর, কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ফলে মহারাষ্ট্রের গ্রামীণ অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতির মুখে। উৎসবের মরসুমে ক্রয়ক্ষমতা হারিয়েছেন কৃষকরা। মানিক রাও জেন্ডি নামে একজন পেঁয়াজ চাষির কথায়, ‘লাখ টাকায় ফসল ফলিয়ে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি। মহারাষ্ট্রজুড়ে নানা ধরনের অপরাধ বাড়ছে। রাজ্য সরকার কৃষক স্বার্থরক্ষায় ব্যবস্থা নিলে ক্রমবর্ধমান অপরাধে রাশ টানা যেত।’
যুব সম্প্রদায়ের হাতে কাজ নেই। গ্রামাঞ্চল থেকে অনেকে কাজের খোঁজে পাড়ি দিচ্ছে শহরে। সেখানেও মিলছে না কাজ। সমাজবিরোধী চক্রগুলি তীব্র বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে ফাঁদে ফেলছে নাগরিকদের। এঁদের একাংশ আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সদস্য বলে জানা গিয়েছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্যানুসারে, সারা দেশের মধ্যে কৃ¡ক আত্মহত্যার নিরিখে মহারাষ্ট্র প্রথম স্থানাধিকারী রাজ্য। মহারাষ্ট্রে কৃষক আত্মহত্যার হার ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এজন্যে কৃষক সংগঠনগুলি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনবিরোধী কৃষিনীতিকে কাঠগড়ায় তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *