বাংলাদেশে মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দিনভর অনুষ্ঠান

রাজন্যা নিউজ ব্যুরো

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়িতে দিনব্যাপী নানা আয়োজনে তাঁর স্মরণোৎসব উদযাপিত হয়েছে। মধুমেলা না হলেও পুরো মধুপল্লী ছিল উৎসবের আমেজে ভরপুর। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় সাগরদাঁড়ি মধুপল্লীতে কবির স্মৃতি ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর কেক কাটা, আলোচনা সভা, প্রবন্ধ উপস্থাপন, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং স্মারক গ্রন্থ ‘সনেট’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রচনা, চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন। তিনি বলেন, মাইকেল মধুসূদন দত্ত শুধু যশোর বা কেশবপুরের গর্ব নন, তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতীক। তাঁর সাহিত্যকর্ম আমাদের জাতিসত্তার অহংকার। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম তাঁর সাহিত্য ও জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুক। তিনি আরও বলেন, মধুমেলা এ অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক আয়োজন। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে মেলা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি, তবে জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা সীমিত পরিসরে হলেও যথাযথ মর্যাদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করেছি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মাদ আশেক হাসান। তিনি বলেন, নির্বাচনের কারণে এবার মধুমেলা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তবে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে একটি সুন্দর ও উপযুক্ত সময়ে মধুমেলা আয়োজন করা হবে। এটি শুধু উৎসব নয়, আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি আরও বলেন, মাইকেল মধুসূদনের সাহিত্য আজও প্রাসঙ্গিক। তাঁর রচনায় মানবতা, দেশপ্রেম ও শৈল্পিক উৎকর্ষের যে দৃষ্টান্ত রয়েছে, তা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। সাগরদাঁড়িকে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ সাহিত্য ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মাসুম বিল্লাহ, সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মোফাজ্জেল হোসেন, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের অধ্যাপক ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাধন কুমার দাস, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সুকদেব রায়, যশোর প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন শিশু একাডেমি শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বিমল কুমার কুন্ডু।

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামের জমিদার দত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা রাজ নারায়ণ দত্ত ও মাতা জাহ্নবী দেবী। শৈশবে তিনি বাংলা ও ফারসি ভাষায় শিক্ষালাভ করেন এবং পরে কলকাতায় গিয়ে ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। তিনি ‘মেঘনাদবধ কাব্য’, ‘ব্রজাঙ্গনা’, ‘বীরাঙ্গনা’, ‘তিলোত্তমাসম্ভব’, ‘পদ্মাবতী’, ‘কৃষ্ণকুমারী’সহ বহু কালজয়ী সাহিত্যকর্ম রচনা করেন।

১৮৭৩ সালের ১৯ জুন কলকাতায় তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। প্রতিবছর কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা অনুষ্ঠিত হলেও এবছর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে মেলা আয়োজন করা হয়নি। তবে জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পুরো মধুপল্লী বর্ণিল সাজে সাজানো হয় এবং হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে কবির জন্মভূমি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *