হেমন্তে ঝড় তুলেছে ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’ ২৪ ঘন্টায় ৫০ হাজার আবেদন, দাবি শাসকদলের

কল্যাণ অধিকারী, রাজন্যা নিউজ

মিষ্টি রোদের হেমন্তের বিকাল, মাঠে মাঠে সোনার ফসল। বইছে হালকা শীতল বাতাস। এমন একটি সময় ডিজিটাল দুনিয়ায় ঝড় তুলে দিয়েছেন তৃণমূলের সেনাপতি। ২৪ ঘণ্টা হয়েছে ( খবর লেখা পর্যন্ত) চালু করেছেন তৃণমূলের নতুন কর্মসূচি ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’। তাতে নাম লেখাতে যুব সমাজে ঝড় বইয়ে দিয়েছেন, তিনি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের দাবি, উনি দলটাকে একটা অন্য দিশা দিতে চাইছেন। তাই হয়তো এক ডাকে ৫০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। কে জানে আগামী নভেম্বরের মধ্যে কোথায় গিয়ে ঠেকবে। বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তাই নির্বাচনের আগে ডিজিটাল মাধ্যমে দলের উপস্থিতি আরও শক্তপোক্ত করতেই এই কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন। এর আগে, অভিষেক ব্যানার্জি ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’কে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ‘সেবাশ্রয়’ উদ্যোগ চালু করেছেন। যা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। লক্ষ-লক্ষ মানুষ সেবা পাচ্ছেন। এককথায়, ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচি গোটা দেশকে পথ দেখানোর কাজ করেছে।

তৃণমূল জানিয়েছে, ডিজিটাল ওয়েবসাইট চালু হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর দেখা গিয়েছে, ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিজের নাম নথিভুক্ত করেছেন সেখানে। যাকে ‘বিরাট সাড়া’ বলেই মনে করছে শাসকদল। তাঁদের যুক্তি, দল ছেড়ে পালানো এক নেতা তারিখের পর তারিখ দিচ্ছে। ওইদিন এই হবে, এইদিন এই হবে। শুধুমাত্র টিভি চ্যানেলে ভেসে থাকার জন্য লোক হাসানো ভাসন দিচ্ছে। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেটা বলেন, সেটা করিয়ে দেখিয়ে দেন। শাসকদলের অনেকেই মনে করছেন, এত দিন রাজনৈতিক লড়াইয়ের মূল ভরসা ছিল বুথ সংগঠন। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের কাছে মোবাইল নির্ভরতা বেড়েছে। মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে অনেকটা সময় তারা দিচ্ছে। তাই এবার সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল পরিসরের ময়দান দখলে নিতে নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল সূত্রে আরও খবর, বুথ পিছু অন্তত ১০ জনকে ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাঁরা মোবাইলে স্বচ্ছন্দ, প্রযুক্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রয়েছে, রাজনৈতিক যুক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন, তেমন তরুণ-তরুণীদেরই ‘যোদ্ধা’ করতে চাইছে ক্যামাক স্ট্রিট। যদিও প্রচারের সময় সকলকেই আহ্বান জানানো হয়েছে।

গ্রাম-বাংলার যুব সমাজের একটা অংশ ডিজিটাল দুনিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক। তাই বৃহস্পতিবার ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’ অভিষেক সূচনা করতেই ওয়েবসাইট লিঙ্ক খুলে তথ্য ভরতে ব্যাপকভাবে সাড়া মিলছে। শাসকদলে কানাঘুষো, এক সময় বুথের কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখেছিলেন তৃণমূলের মুকুল রায়। সেসব এখন অতীত। ভাগীরথী দিয়ে জল বয়েছে বিস্তর। এখন দলে সেনাপতির ভূমিকায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়েছে ডিজিটাল দুনিয়া। তাই রাজনৈতিক ডিজিটাল প্রচারের ক্ষেত্রে বিজেপিকে টেক্কা দিতে অভিষেকের নয়া হাতিয়ার হয়ে উঠবেন বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধারা। যদিও তৃণমূলের নিজস্ব আইটি সেল আগে থেকেই ছিল, তবে এই নতুন উদ্যোগ মূলত ২০২৬ নির্বাচনকে সামনে রেখেই আরও পেশাদার, আরও সংগঠিত তরুণ ডিজিটাল আর্মি তৈরির পরিকল্পনা। যার শুরুটা হল হেমন্তের হালকা কুয়াশামাখা পথঘাট আর পড়ন্ত বিকেলের সূর্যের আলোয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *