হারলে নীতীশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখ পড়বে

কল্যাণ অধিকারী, দিন দর্পণ

বিহারে ভোটে এনডিএ-র পাল্লা ভারী, ভোটারের মন বোঝার পরীক্ষা বুথফেরত সমীক্ষায় তেমনটাই দেখিয়েছে সর্বভারতীয সব নিউজ চ্যানেল। কিন্তু এই ফুল মার্কস দেওয়া এনডিএ শিবিরের ফল খারাপ হলে সেক্ষেত্রে বড় প্রভাব পড়বে নীতীশের উপর। একের পর এক প্রশ্ন ধেয়ে আসবে মিডিয়ার কাছ থেকে। তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রশ্নের সম্মুখীন হবে।
বিহারের ভোট পেতে দলিতদের গুরুত্ব বোঝাটা ছিল জরুরি। এখানকার রাজনীতিতে জাতপাত এর সমীকরণ একটা অপরিবর্তনীয় সত্য। একের পর এক ভোটে জয় পরাজয় নিশ্চিত করেছে। ২৫-এর বিধানসভা নির্বাচনে ‘মহাগঠবন্ধন’ অর্থাৎ আরজেডি, কংগ্রেস এবং বাম দলগুলির জোট প্রথম থেকে শিরোনামে। একদিকে রাহুল অন্যদিকে তেজস্বী ভোটারদের মন জয় করতে সবরকম চেষ্টা করেছে। অপরদিকে বিজেপি যতই প্রধানমন্ত্রী ও হেভিওয়েট এসে প্রচার করুক না কেন, তাঁরা নীতীশকে সঙ্গ ছাড়েনি। কারণটা বিহারের ভোটে অতি দলিতদের আনুগত্যের ওপরেই ভরসা রাখতে হয়। এতকিছুর পরেও যদি ভোটারদের মন জয় না হয়, তাহলে নড়বড়ে নীতীশের সঙ্গ ছাড়াই প্রধান লক্ষ্য হবে গেরুয়া শিবিরের।
তেজস্বীর সাফ কথা ১৮ তারিখ হবে শপথ। প্রতিটি বুথ, ব্লক ও জেলাওয়াড়ী হিসাব তুলে ধরেছেন। একিসঙ্গে এক্সিট পোলকে ভুয়ো বলে উল্লেখ করে সমস্ত সমীক্ষা রিপোর্টকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। কেন এতটা আত্মবিশ্বাস ? দলের একাংশের বক্তব্য এনডিএ শিবির যতই লাফাক, কেজি কেজি লাড্ডুর অর্ডার দিক, রাজ্যের প্রতিটি প্রান্ত চষে বেড়িয়েছেন একমাত্র তেজস্বী। তাই তো বিহারের মানুষ বুথফেরত সমীক্ষায় মজে যায়নি। রাস্তাঘাট থেকে চায়ের দোকান, পাড়ার মোড় সর্বত্র একটাই আলোচনা, সরকার গড়বে কে? বুঝে গিয়েছে ওসব পয়সার খেলা। মিডিয়ার মাধ্যমে একটা ঝড় তোলার চেষ্টা করেছে। রাজ্যের মানুষ জেনে গেছে, ক্ষমতায় থাকতে নীতীশ কুমার ‘বন্ধুবদল’ করার রেকর্ড গড়েছেন। তাই তো মানুষের ভোট ‘মহাগঠবন্ধন’ শক্ত করেছে।
জেতার বিষয়ে একশো শতাংশ নিশ্চিত ‘মহাগঠবন্ধন’ শিবির। শুক্রবার বেলা যত গড়াবে মানুষের ভোট প্রতিফলিত হবে তত বেশি। লালুর পরিবারের তরফেও জেতার আনন্দে মাততে পিছিয়ে নেই। শোনা যাচ্ছে, তাঁদের পক্ষ থেকে ৫০১ কিলো লাড্ডুর অর্ডার দেওয়া হয়েছে। কেনা হচ্ছে ফুল-মালাও। তবে লাখ টাকার প্রশ্ন, বিহারের ভোটের ফল ওলটপালট হলে নীতীশ বাবু কি করবেন? বিজেপির সঙ্গ ছাড়বেন? নাকি ২০১৪-র মতো আবারও এনডিএ জোট ছাড়বেন। সামিল হবেন ‘মহাগঠবন্ধন’ জোটে? রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, এটাই হয়তো নীতীশ কুমারের শেষ অগ্নিপরীক্ষা! ফলাফল খারাপ হলে বিজেপি, বন্ধুত্বের হাত ছেড়ে দেবে। সেক্ষেত্রে নীতীশ কুমারের ফিরে আসা সমস্যার হয়ে দাঁড়াবে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *