সান্দাকফুতে মৃত্যু যাদবপুরের পর্যটকের
রাজন্যা নিউজ ব্যুরো, দার্জিলিং: পাহাড়ে মৃত্যুর করাল ছায়া। নেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রও। এই পরিস্থিতিতে দার্জিলিঙে বেড়াতে আসা পর্যটকদের ঝুঁকির বিষয়টি বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে। তোপের মুখে পড়েছে জিটিএ।
প্রচলিকত প্রবাদ, বাঙালির দৌড় দী-পু-দা পর্যন্ত। অর্থাৎ দীঘা, পুরী, দার্জিলিং। দার্জিলিঙের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য্য বার বার আকর্ষণ করে পর্যটন-প্রিয় বাঙালিকে। কিন্তু দার্জিলিঙের উচ্চতা অনেক পর্যটকের কাছে, বিশেষত যাঁরা প্রবীণ-প্রবীণা, ঝুঁকির কারণ হতে পারে। কার পাহাড়ি উচ্চতায় পর্যটন সম্ভব আর কার তা ঝুঁকির কারণ হতে পারে, তার কোনও পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই জিটিএতে। তা দূরে থাক, নেই কোনও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রও। স্বভাবতই এনিয়ে পর্যটকরা ক্ষুব্ধ। ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যেও। যা বেড়েছে ৭২ বছরের অনি¨িতা গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে।
দার্জিলিঙের সান্দাকফুতে বেড়াতে এসেছিলেন যাদবপুরের বাসিন্দা ৭২ বছরের অনিন্দিতা গঙ্গোপাধ্যায়। সোমবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠছে, প্রশাসনিক তৎপরতার অভাবের। জিটিএ ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ চৌহান এই বিষয়ে জানিয়েছেন, দার্জিলিং সদর হাসপাতালে মৃতার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য আনা হয়েছে।
জানা গেছে, চারদিন আগে অনিন্দিতা দেবী তাঁর বোনের সঙ্গে দার্জিলিঙে আসেন। সোমবার দুপুরে সান্দাকফু পৌঁছান তাঁরা। দুপুরেই তিনি শ্বাসকষ্ট অনুভব করতে থাকেন। এই সময়ে মানেভঞ্জনের একটি সংস্থার সদস্যরা তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সান্দাকফুতে কোনও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় তাঁকে সুখিয়াপোখরি ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।
বিজ্ঞান বলছে, পাহাড়ে চড়ার ধকল সকলে নিতে পারেন না। বিশেষত বয়স্করা। এখনও পর্যন্ত সান্দাকফুতে কোনও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি, যারা বলতে পারবে কার পক্ষে পাহাড়ে চড়া সম্ভব আর কার পক্ষে তা নয়। যার ফলে এখানে এসে বিভিন্ন জনের মৃত্যু হয়েছে। এই বছরেই মারা গেছেন পূর্ব বর্ধমানের একজন। স্থানীয় মানুষদের অভিযোগ, বারংবার এই মর্মান্তিকতার পরেও টনক নড়েনি প্রশাসনের।
