মহাত্মা গান্ধির নামবদলে ‘জিরামজি’!সমালোচনায় বিরোধীরা
রাজন্যা নিউজ ব্যুরো নয়াদিল্লি: মহাত্মা গান্ধি ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম বা এমজিএনআরইজিএ বাতিল করে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের জন্য একটি নতুন আইন, বিকশিত ভারত-রোজগার এবং আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) বিল, ২০২৫ লোকসভায় পেশ করতে চলেছে। বিলটির একটি অনুলিপি অনুযায়ী, এটি সংসদে ভিবি-জিরামজি বিল, ২০২৫ পেশ করতে এবং ২০২৫ সালের মহাত্মা গান্ধি ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম বাতিল করতে চায়।
এই নাম বদল প্রসঙ্গে সোমবার কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধি মহাত্মা গান্ধি ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম-এর নাম পরিবর্তনের কেন্দ্রের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রিয়াঙ্কা প্রশ্ন তুলেছেন, ভারত তো বটেই, সারা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা মহাত্মা গান্ধির নাম বাদ দেওয়ার পেছনে সরকারের কী উদ্দেশ্য রয়েছে?
এই প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বলেন, ‘যখনই কোনও প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হয়, তখন অফিস, স্টেশনারি ইত্যাদিতে অনেক পরিবর্তন আনতে হয়…যার জন্য টাকা খরচ হয়। তাহলে এর-র নাম পরিবর্তনের কী সুবিধা? কেন এটা করা হচ্ছে? মহাত্মা গান্ধির নাম কেন মুছে ফেলা হচ্ছে? মহাত্মা গান্ধিকে শুধু দেশেই নয়, সারা বিশ্বেই একজন শ্রেষ্ঠ নেতা হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই তাঁর নাম মুছে ফেলার উদ্দেশ্যটা আমি সত্যিই বুঝতে পারছি না। ওদের উদ্দেশ্যটা কী?’
প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, ‘আমরা যখন আলোচনা করি, তখনও তা জনগণের আসল সমস্যা নিয়ে নয়, বরং অন্য বিষয় নিয়ে। সময় নষ্ট হচ্ছে, অর্থ নষ্ট হচ্ছে, ওরা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করছে।’
এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রের সমালোচনায় সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। যদি কোনওভাবে ১০০ দিনের প্রকল্প থেকে মহাত্মা গান্ধির নাম বাদ দেওয়া হয়, তাহলে আরও বড় আন্দোলন হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলার শাসক দল। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, মহাত্মা গান্ধির নাম সরিয়ে এখানে রাম-নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
সিপিআই (এম) ভিবি-জিরামজি বিল, ২০২৫ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সিপিআই (এম)-এর দাবি, এই ভিবি-জিরামজি বিল মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের দায়িত্ব ১০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রধান রাজ্যগুলির জন্য ৬০:৪০ অনুপাতে ভাগাভাগির ব্যবস্থায় নিয়ে আসে।
এদিকে, মহাত্মা গান্ধি ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম-এর পরিবর্তে মোদি সরকারের ভিবি-জিরামজি বিলের মাধ্যমে কেন্দ্র ক্ষমতায়ন, আর্থিক বৃদ্ধি, সমন্বয় এবং সর্বব্যাপীতার উপর জোর দিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও মজবুত গ্রামীণ ভারত গড়ার লক্ষ্যে বিকশিত ভারত ২০৪৭ দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়নকে এক সারিতে বাঁধার পরিকল্পনা করেছে।
নতুন বিলটিতে প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারকে প্রতি আর্থিক বছরে ১২৫ দিনের মজুরি কর্মসংস্থানের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শীঘ্রই লোকসভায় এটি নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইন পাস হওয়ার পর, এই নতুন বিলটি সেইসব পরিবারের জন্য কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা প্রদান করবে যাদের তরুণ সদস্যরা স্বেচ্ছায় অদক্ষ কায়িক শ্রম করতে আগ্রহী।
বিলে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে যে কাজ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ বা ১৫ দিনের মধ্যে অর্থ প্রদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অর্থ প্রদান না করা হলে, বেকার ভাতারও বিধান রয়েছে। নতুন আইনের অধীনে, অদক্ষ কাজ করতে ইচ্ছুক প্রতিটি গ্রামীণ পরিবার প্রতি বছর ১২৫ দিনের বেতনভুক্ত কর্মসংস্থান পাবে। এর লক্ষ্য হল ২০৪৭ সালের উন্নত ভারতের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ গ্রামগুলির সামগ্রিক উন্নয়ন অর্জন করা।
তবে, মহাত্মা গান্ধি ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম-কে নতুন করে সাজানো বা নিয়ম বদলের ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করার প্রয়োজন বা প্রকল্প থেকে মহাত্মা গান্ধির নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে মোদি সরকারের যুক্তি এবং দৃষ্টিভঙ্গি সংসদে স্পষ্ট করার দাবিতে সরব হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধি-সহ বিরোধীরা।

