তৃতীয় তৃণমূল সরকারের শেষ বাজেটে মমতার ছোঁয়া
কল্যাণ অধিকারী, রাজন্যা নিউজ
মার্চ মাসের শেষের দিকে ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশ হতে পারে বাংলায়। তার আগে তৃতীয় তৃণমূল সরকারের শেষ বাজেটে সরকারের শেষ বাজেটে মমতার ছোঁয়া। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ৪ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকার অন্তর্র্বতী বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। রাজ্যের জন্য একগুচ্ছ জনমুখী প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন চন্দ্রিমা। পাশাপাশি আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, প্যারা টিচার সবার ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সিভিক ভলান্টিয়ার এবং গ্রিন পুলিশদের বেতন মাসে ১০০০ টাকা করে বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বাড়ানো হয়েছে ৫০০ টাকা। ভোটের মুখে মাস্টারস্ট্রোক মমতার বলছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রীর কন্ঠে কার্যত ভোটের সুর। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে ৬টি ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইকনমিক করিডর’ তৈরি করার কাজ হাতে নিয়েছে তা জানালেন। আরও কর্মসংস্থানের প্রয়াসে জলপাইগুড়ি জেলায় দুটি এবং বীরভূম, বাঁকুড়া ও মুর্শিদাবাদ জেলায় একটি করে মোট পাঁচটি নতুন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প পার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষকে প্রতি বছর গঙ্গার ভাঙন দেখতে হয়। এদিন চন্দ্রিমা বলেন, ভাঙ্গন রোধে সরকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য ও পরামর্শ নিয়ে একটি সার্বিক পরিকল্পনা রূপায়ণ করতে চলেছে। সরকার চায় সমস্যাটির একটি চিরস্থায়ী সমাধান। জলপাইগুড়ি জেলায় দুটি এবং বীরভূম, বাঁকুড়া ও মুর্শিদাবাদ জেলায় একটি করে মোট পাঁচটি নতুন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প পার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে খেলাধুলোর উন্নতির জন্য হাওড়ার ডুমুরজলাতে ইতিমধ্যে একটি ‘স্পোর্টস সিটি’ তৈরি করা হচ্ছে। এবার কলকাতার উপকণ্ঠে বারুইপুরে ইতিমধ্যে টেলি অ্যাকাডেমি গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে এই অ্যাকাডেমিকে কেন্দ্র করে একটি ‘সংßৃñতি শহর’ বা ‘কালচারাল সিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বছর তিনেক আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে হাওড়ার ডুমুরজলার ৫৩ একর স্টেডিয়ামটিকে নিয়ে ‘খেল সিটি’র পরিকল্পনা করে রাজ্য ক্রীড়া দফতর। স্টেডিয়ামে সবুজায়নের পাশাপাশি ফুটবল, ক্রিকেট, হকি-সহ নানা একাধিক খেলার জায়গা তৈরি করা হয়। এবার বারুইপুরে টেলি অ্যাকাডেমি গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানালেন অর্থমন্ত্রী।
এখানেই শেষ নয়। ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম-এ পেনশনভোগীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেট ২০২৬-২৭-এ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানোর প্রস্তাব। সরকারি কর্মচারীদের হেলথ স্কিমে পেনশনভোগী জন্য বাড়ছে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাওয়ার লিমিট। বাজেট ভাষণে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘যত দিন যাচ্ছে বাড়ছে চিকিৎসার খরচ। পেনশনভোগীদের উপর থেকে চিকিৎসার খরচের বোঝা কমাতে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা বাড়ানোর কথা ভাবা হয়েছে। সরকারি প্যানেলভুক্ত হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় তাঁদের চিকিৎসা খরচ ২ লক্ষ টাকা অতিক্রম করলে, পরবর্তী বাড়তি খরচের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশলেস করা হবে। এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি শীঘ্রই প্রকাশিত হবে।’
বাজেট নিয়ে তৃণমূলের ব্যাখ্যা, সরকারি কর্মচারী থেকে শুরু করে সাধারণ গৃহবধূ এবং বেকার যুবক-যুবতী, সর্বস্তরের মন জয় করেছে মমতার সরকার। একগুচ্ছ জনমোহিনী প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে এই বাজেটে। যা আগামীদিনে রাজ্যের মানুষের জন্য কাজে লাগবে। সপ্তম পে কমিশন ও ডিএ ঘোষণা করে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় চমক রাখা হয়েছে।

