কংগ্রেসের হাত ধরলেন মালদহের মৌসম
রাজন্যা নিউজ ব্যুরো, নয়াদিল্লি
বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা হয়নি। তার আগেই শুরু হয়েছে ঘর ভাঙার খেলা। ২০১৯ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে গিয়েছিলেন। ৭ বছর পর তৃণমূল ছেড়ে ঘরে ফিরলেন রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নুর। শনিবার দিল্লিতে ২৪ নম্বর আকবর রোডের কংগ্রেসের দফতরে গিয়ে কংগ্রেসের হাত ধরলেন তিনি। নিজের পুরোনো ঘরেই ফিরলেন তিনি। দিল্লিতে প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ, পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গোলাম আহমেদ মির, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং মালদা উত্তরের কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরীর নেতৃত্বে কংগ্রেসে যোগ দিলেন তিনি। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই নিজের ঘরে ফিরলেন মৌসম। তাঁর ঘরে ফেরা রাজনীতিতে বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়াল। আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মেয়াদ রয়েছে। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দলত্যাগ করে পুরোনো দলেই ফিরেছেন মৌসম নুর। উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে যা বড় ঘটনা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মৌসম এখনও রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদ। তবে এ বছর এপ্রিল মাসে রাজ্যসভায় তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তার ঠিক আগেই এদিন নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস দফতরে পৌঁছে যান মৌসম। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ ও মালদা দক্ষিণের সাংসদ তথা ভাই ঈশা খান চৌধুরীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে কংগ্রেসে ফিরে যান মৌসম নূর। পরে সাংবাদিক বৈঠকে মৌসম বলেন, ‘মালদায় গণিখান চৌধুরীর ঐতিহ্যকে আরও মজবুত ও শক্তিশালী করতেই কংগ্রেসে ফিরেছি। তৃণমূল চেয়ারপারসন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইতিমধ্যেই ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি। সোমবার রাজ্যসভা থেকেও ইস্তফা দিয়ে দেব’।
কৌতূহলের বিষয় হল, রাজ্যসভায় ফের মনোনয়ন পাবেন না ধরে নিয়েই কি মৌসম কংগ্রেসে ফিরলেন? রাজনৈতিক সূত্রের মতে, সম্ভবত তা নয়। মৌসম সংখ্যালঘু নেত্রী। মালদায় একজন সংখ্যালঘু নেত্রীকে রাজ্যসভায় পুনরায় মনোনয়ন না দেওয়ার ঝুঁকি হয়তো তৃণমূল নিত না। তবে হ্যাঁ, মৌসম যে তৃণমূলে খুব গুরুত্ব পাচ্ছিলেন তাও নয়। বনিবনার অভাব হচ্ছিল। সেই লক্ষ্মীন্দরের ছিদ্রপথেই তাঁকে ঘরওয়াপসির প্রস্তাব দেয় কংগ্রেস।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে এটা তৃণমূলের জন্য বড় অস্বস্তির ঘটনাই ঘটল। ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর তৃণমূল ছাড়ার পর এমনিতেই মুর্শিদাবাদে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এবার মালদাতেও কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হল। বড় কথা হল, মালদা ও মুর্শিদাবাদে অতীতে তৃণমূল কখনওই শক্তিশালী ছিল না। এমনকি ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে গোটা বাংলায় ২০০-র বেশি আসনে জিতলেও মালদায় তৃণমূল খাতাই খুলতে পারেনি। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে শীতলকুচির ঘটনার পর এই দুই জেলায় স্যুইপ করে কংগ্রেস। সংখ্যালঘু ভোটের মেরুকরণ ঘটে যায় তৃণমূলের অনুকূলে। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে দেখা যাচ্ছে, এই দুই জেলায় শক্তিশালী সংখ্যালঘু নেতা বা নেত্রীরা তৃণমূলের থেকে দূরত্ব তৈরি করছেন। সেটাই চলতি পরিস্থিতিতে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।

