অগ্নিগর্ভ নেপাল! বন্ধ শিলিগুড়ি-নেপাল বাস যোগাযোগ, পরিজনদের জন্য দুশ্চিন্তায় বহু পরিবার

দীপিকা অধিকারী, রাজন্যা নিউজ

ঘরের ছেলেরা কর্মসূত্রে রয়েছে নেপালে। সকাল থেকে পরিবারের চোখ টিভির পর্দায়। পড়শি দেশের অশান্তির আঁচ পড়েছে দুই মেদিনীপুর জেলায়। ঘনঘন মোবাইলে নজর রাখছে। এই বুঝি মোবাইলের রিং বেজে উঠলো। দাসপুর, ঘাটাল, গোপিগঞ্জ-সহ একাধিক এলাকার যুবকরা সোনার কাজে কয়েকবছর ধরে রয়েছেন নেপালে। কিন্তু এমন অশান্তির পরিস্থিতি আগে ঘটেনি বলেই ফোনে জানিয়েছে।

ক’দিনের ছাত্র-যুব অভ্যুত্থানের পর, মঙ্গলবার নতুন করে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এরমধ্যেই দুপুরেই টিভিতে ওলির পদত্যাগের খবর দেখানো শুরু হয়। নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে নাকি পদত্যাগ করতে বলেন সেনা প্রধান। তারপরেই চিন্তার মেঘ এ রাজ্যের বহু মানুষের। যতক্ষণ না পরিজনের মুখটা দেখতে পাচ্ছে। ততক্ষণ শান্তি নেই। এ-ও বুঝতে পারছেন না যে, পরিস্থিতি কতদিনে শান্ত হবে। বার বার টিভি খুলে খবর দেখছেন। মোবাইলে মেসেজের অপেক্ষা করছেন। ২৬ টি সোশ্যাল সাইড বন্ধ থাকায় ছেলের মুখ দেখতে পাননি শান্তা রায়। মূলত হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলের মাধ্যমে মুখটা দেখতাম। অশান্তির নেপালে ছেলের মুখ না দেখতে পাওয়াটা কতটা কষ্টের কি করে বোঝাব।

শিলিগুড়ি থেকে কাঠমান্ডু পর্যন্ত এনবিএসটিসি-র বাস চলাচল করত। ওতে করেই অনেকে যাতায়াত করেন। অশান্তির আবহে সেই বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এ খবর টিভির মাধ্যমে পৌঁছেছে পরিবারের কাছে। চাইলেও নেপাল থেকে তারা বাড়ি ফিরতে পারবে না। এমনকি কেউ-কেউ আবার যোগাযোগ করতে পারছেন না পরিবারের সঙ্গে। ফলে চরম আতঙ্কে তাঁরা। শিলিগুড়ি হোক বা কলকাতা এমনকি মেদিনীপুর বা অন্য জেলা। নেপালে থাকা পরিজনেরা এই কঠিন সময়ে ফিরে আসুক বাড়িতে চাইছেন এখানকার পরিবারের লোকজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *