বিজেপি’র প্রার্থী ঘোষণার পরই এনডিএ’তে অসন্তোষ ক্ষুব্ধ নীতীশ, চিরাগ

রাজন্যা নিউজ ব্যুরো

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আর কয়েক সপ্তাহ বাকি। এখনও পর্যন্ত শরিক দলগুলির মধ্যে আসন সমঝোতাই হল না এনডিএ-এর। একের পর এক বৈঠক, দীর্ঘ কথাবার্তার পরে অবশেষে একটা রফায় এসেছিল বিহারের এনডিএ জোট শরিকদলগুলি। ঘোষণা করা হয়েছিল এই বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এবং নীতীশ কুমারের দল জেডি(ইউ) দু’জনেই সমান সমান ১০১টি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে এই আসন সমঝোতা না হওয়ার কারণে বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) জোটের ভেতরে বাড়ছে ফাটল, তৈরি হচ্ছে অস্থিরতা। মঙ্গলবার বিজেপি তাদের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে ৭১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। এরপরই জোটের সহযোগী দলগুলির মধ্যে অসন্তোষ ছড়ায়। যদিও অসন্তোষের কথা মানতে রাজি নন নেতারা। তাঁদের দাবি, আলোচনাগুলি ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে’ চলছে।
তবে বুধবার জেডি(ইউ)-র ৫৭ জনের প্রথম প্রার্থী তালিকা নীতীশ কুমার ঘোষণা করতেই স্বচ্ছ হয় জোটের জট। কারণ, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে, তাতে এমন একাধিক কেন্দ্র থেকে জেডি(ইউ)-র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে, যা আদতে প্রয়াত রামবিলাস পাসোয়ানের পুত্র চিরাগ পাসোয়ানের পছন্দ ছিল। সোনবরসা থেকে জেডি(ইউ) প্রার্থী করেছে রত্নেশ সাদাকে, মোরওয়া থেকে বিদ্যাসাগর নিশাদ, একমা থেকে ধুমুল সিং, রাজগীর থেকে কৌশল কিশোর, মাটিহানি থেকে রাজকুমার সিং এবং গাইঘাট থেকে কোমল সিংকে প্রার্থী করেছেন নীতীশ। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, এই পাঁচটি আসনেই নজর ছিল এলজেপি’র।

এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, ইউনিয়ন মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ানের নেতৃত্বাধীন লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস) বা এলজেপি (আরভি)-কে দেওয়া হয়েছে ২৯টি আসন। অপরদিকে, উপেন্দ্র কুশওয়াহার নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা (আরএলএম) ও জিতন রাম মাঁঝির হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (এইচএএম)-কে দেওয়া হয়েছে ৬টি করে আসন। এই প্রসঙ্গেই জেডিইউ অভিযোগ করেছে, তাদের কোটা থেকে কিছু আসন চিরাগ পাসওয়ানের দলে বরাদ্দ করা হয়েছে। বিশেষত সোনবরসা, রাজগীর, একমা ও মোরওয়া আসন জেডিইউ কোনওভাবেই ছাড়তে রাজি নয়। একাধিক বৈঠক সত্ত্বেও সমাধান না হওয়ায় জেডিইউ ওই চার আসনে নিজেদের প্রতীক দিয়েই প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে নীতীশ কুমার নেতৃত্বাধীন দল কেবল দুটি আসন তারাপুর (বর্তমান আসন) ও তেঘরা ছেড়ে দিয়েছে, যার বিনিময়ে তারা বিজেপির কাছ থেকে পেয়েছে কাহালগাঁও।
এদিকে আবার বিজেপি চিরাগ পাসওয়ানের দলকেও দানাপুর, লালগঞ্জ, হিসুয়া ও অরওয়াল-এর মতো বেশ কয়েকটি ‘প্রিমিয়াম’ আসন দিতে অস্বীকার করেছে। এলজেপি (আরভি)-কে গোবিন্দগঞ্জ (বিজেপির বর্তমান আসন) ও ব্রহ্মপুর-এর মতো এলজেপি দুটি আসন ছেড়েছে বিজেপি। ব্রহ্মপুরে এলজেপি প্রার্থী হুলাস পাণ্ডে প্রতীক পেয়েছেন। অন্যদিকে আরএলএম প্রধান উপেন্দ্র কুশওয়াহা ক্ষুব্ধ, কারণ তাঁর দলের কোটার মহুয়া আসনটি চিরাগ পাসওয়ানের দলে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ জানিয়ে কুশওয়াহা তাঁর দলের কোনও প্রার্থীকে প্রতীক দেননি এবং জরুরি বৈঠক ডাকেন। বিজেপি রাতভর তাঁর মনোভাব পরিবর্তনের চেষ্টা করলেও তিনি রাজি হননি।

এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, ২০২০ বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ১৩০টি আসনে একা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল এলজেপি অর্থাত রামবিলাস। কিন্তু, জেতে মাত্র ১টি আসনে। এরপর চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ায় চিরাগ। ৫টি আসনে দাঁড়িয়ে ৫টিতেই যেতে তাঁর দল। তাই ২০২৫ এ বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই রেজাল্টকেই সামনে এনডিএ জোটের আসন রফায় দর কষাকষি করেছিলেন চিরাগ। তুমুল প্রচ্ছন্ন হুমকি, দড়ি টানাটানির পরে অবশেষে চিরাগের কপালে জোটে ২৯টি আসন। এদিকে সূত্রে খবর মিলছে, পছন্দের যে ৫টি আসন পাওয়ার জন্য দর কষছিলেন চিরাগ, তা কিছুতেই ছাড়তে চাননি নীতীশ। এই ৫ আসনই যাওয়ার কথা ছিল চিরাগের ঝুলিতে। অন্যদিকে, রফায় খুশি নন বিহারের এনডি শরিক আরএলএম ও এইচএএম। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা এইচএএম প্রধান জিতন রাম মাজি প্রকাশ্যেই আসন সমঝোতা নিয়ে তাঁর অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। বলেছেন, বুদ্ধগয়া এবং মাখদুমপুরে প্রার্থী দেবে তাঁর দল। এদিকে ওই দুই আসনই দেওয়া হয়েছে চিরাগের দলকে। অন্যদিকে, মহাজোটবন্ধন তাদের নির্বাচনী চুক্তি এখনও ঘোষণা করেনি, এবং জট কাটাতে আলোচনা চলছে। এই প্রসঙ্গে কুশওয়াহা এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ‘এনডিএ-তে সবকিছু ঠিকঠাক চলছে না। আমি দিল্লি যাচ্ছি, যেখানে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। আমি গৃহমন্ত্রী ও বিজেপির প্রধান কৌশলবিদ অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করব। আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *