দেওয়াল খসে পড়া পোস্ট অফিসেই ১১টি গ্রামের চিঠিপত্র সামলাচ্ছেন মহিলা কর্মী

কল্যাণ অধিকারী, রাজন্যা নিউজ

ভগ্নদশা অবস্থা পোস্ট অফিসের। সাপ, বিছের মতো বিষাক্ত সরীসৃপের আনাগোনা। এমন একটি পোস্ট অফিস চালাচ্ছেন এক মহিলা পোস্ট মাস্টার। ১১ টি গ্রামের ডাক পরিষেবা মেলে এই পোস্ট অফিস থেকে। অথচ, এই পোস্ট অফিসের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, যেকোন সময়ে মাথার উপরে থাকা টালির চাল ভেঙে পড়তে পারে। এমনটাই হাল উলুবেড়িয়া মহকুমার অধীনস্থ মহিষরেখা ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিস।
মান্ধাতার আমলের প্লাস্টার করা এক চালার ঘর। কবেই প্লাস্টার খসে পড়েছে। পাঁচ ইঞ্চির দেওয়াল থেকে এখন শুধু দেখা যায় ইট ও সূর্যের আলো। বর্ষায় জল আটকাতে টালির উপর ঢেকে দেওয়া হয়েছে পলিথিন। তা ও পোস্ট মাস্টারের টাকায় কেনা। পায়ের নীচে মাটি ও গর্ত। এদিক-ওদিক খেলে বেড়ায় বিষাক্ত বিছে, টিকটিকি এমনকি সাপ ইত্যাদি। বলা যায় বিপদ দশদিকেই। এই পোড়ো ঘরেই চলছে মহিষরেখা ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিস।
নিরাপত্তার বেহাল ছবি। নেই সিসিটিভি ক্যামেরা। একা মহিলা ১১টি গ্রাম ঘুরে ডাক পৌঁছে দেন। তারপর তো মাঝেমধ্যেই লোকজন এসে চিঠি কেন পৌঁছায় না হুমকি সুরে কথা শুনিয়েও যায়। এমনটাই দায়িত্ব প্রাপ্ত মহিলা কর্মীর দিয়া নায়েকের অভিযোগ। তিনি আরও বলেন, ‘উপর তলার আধিকারিকদের বারবার জানিয়েও হয়নি লাভ। একা মহিলা কাজ করি। নিজের নিরাপত্তাটুকু থাকে না। দুদিন আগেও কিছু লোক এসে বিভিন্ন কথাবার্তা শুনিয়ে গেলেন। আমি তো একজন মহিলা কর্মী। কর্মক্ষেত্রে অন্ততপক্ষে নূন্যতম সুযোগসুবিধা ও নিরাপত্তা তো থাকা উচিত।’ এমন একটি সন্নিহিত গ্রামের মানুষ ও চাইছে উন্নতি হোক। তবে কবে হবে তা কেউ জানে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *