ইন্দিরার উদাহরণ দিয়ে মোদিকে কটাক্ষ রাহুলের!
রাজন্যা নিউজ ব্যুরো নয়াদিল্লি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে হাতিয়ার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতি নিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস সাংসদ ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির উদাহরণ টেনে রাহুলের কটাক্ষ, ‘পার্থক্য ছিল, পার্থক্য আছে এবং থাকবে।’ তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার বারবার আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিচ্ছে।
বুধবার এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করা একটি ভিডিয়ো বার্তায় রাহুল দাবি করেন, ট্রাম্পের বক্তব্যই প্রমাণ করে দেয় যে মার্কিন চাপের কাছে নতিস্বীকার করেছেন মোদি। শুল্ক, বাণিজ্য ও রাশিয়া থেকে তেল কেনা, এই সব ইস্যুতে ভারতের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তৎকালীন মার্কিন চাপ সত্ত্বেও ইন্দিরা গান্ধি কোনও আপস করেননি। একবারের জন্যও মাথা নত করেননি।
রাহুল আরও লিখেছেন, ‘বিজেপি এবং আরএসএসকে আমি ভালোই চিনি। ধাক্কা খেলেই ওরা ভয়ে পালিয়ে যায়। ওদিকে ট্রাম্প ফোন তুলে বলে, নরেন্দ্র মোদি আত্মসমর্পণ করুন। জি হুজুর বলে তৎক্ষণাৎ আত্মসমর্পণ করেন তিনি।’ ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ তুলে আরও লিখেছেন, ‘সেই যুদ্ধে আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছিল। কিন্তু ইন্দিরা দমে যাননি। বরং বলেছিলেন আমার যা করার তাই করব। ফলে পার্থক্য ছিল, আছে এবং থাকবে।’ এভাবেই ইন্দিরা গান্ধির সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির তুলনা করেছেন রাহুল।
রাহুলের বক্তব্যে বিজেপি ও আরএসএসের আদর্শগত চরিত্রও উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, স্বাধীনতার সময় থেকেই আত্মসমর্পণের সংßৃñতি বিজেপির রাজনীতির অংশ, বিপরীতে কংগ্রেস বরাবরই সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আপসহীন। এ প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘আসলে ওদের চরিত্র এটাই। স্বাধীনতার সময় থেকেই আত্মসমর্পণের চিঠি লেখার অভ্যাস এদের। কিন্তু কংগ্রেস কখনও আত্মসমর্পণ করেনি। গান্ধিজি, জওহরলাল নেহরু, বল্লভভাই প্যাটেলরা সর্বদা মহাশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে এসেছেন।’
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বয়ান সামনে এসেছে, সেটি নিয়েই প্রধানমন্ত্রীকে রাহুল কটাক্ষ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য ট্রাম্পকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একবার আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, স্যার আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি? উত্তরে আমি হ্যাঁ বলেছিলাম।’ আর এই ইস্যুতেই রাহুলের এমন কটাক্ষ।
লোকসভা নির্বাচনের পরে বিরোধী শিবিরকে চাঙ্গা রাখতে বিদেশনীতি ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নকে সামনে আনছেন রাহুল গান্ধি, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। ট্রাম্পের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মোদিকে ‘দুর্বল নেতা’ হিসাবে তুলে ধরার এই কৌশল বিজেপির শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী ভাবমূর্তিতে ফাটল ধরাতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে বিজেপি শিবির ইতিমধ্যেই এই মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে খারিজ করেছে। ফলে আগামী দিনে এই বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

