পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে শুরু ‘রাজভবন’ নাম বদলে ‘লোকভবন’

রাজন্যা নিউজ ব্যুরো, কলকাতা এবার থেকে আর রাজভবন নয়, দেশের সর্বত্র রাজভবন পরিচিতি পাবে ‘লোকভবন’ নামেই। আর এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হল পশ্চিমবঙ্গ থেকেই। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে কলকাতা ও দার্জিলিংয়ের রাজভবনের নামফলকও বদলে দেওয়া হয়েছে। সরকারি লেটারহেড ও নথিপত্রেও নতুন নাম ব্যবহার শুরু হয় শনিবার থেকেই। রাজভবন সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের রাষ্ট্রপতির নির্দেশে শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজভবনের নাম বদলে হল ‘লোকভবন’। পশ্চিমবঙ্গেই প্রথম এই নাম পরিবর্তন হল। এরপর ধীরে ধীরে সারা দেশেই এই নাম কার্যকরী হবে। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস জানিয়েছেন, শুধু যে নাম পরিবর্তন হয়েছে এমনটা নয়। বিভিন্ন ধরনের যে ডকুমেন্ট আছে সেগুলিতেও যা-যা প্রয়োজনীয় ছিল পরিবর্তন করার, সেইকাজও আজ থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্যপাল এদিন এও জানান, ভারতের সব রাজভবনকেই এবার থেকে লোকভবন বলে ডাকা হবে।
দেশের বিভিন্ন সাংßৃñতিক ঐতিহাসিক স্থান, ভবনের নাম বদল নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এবার সেই নাম বদলের তালিকায় যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গের রাজভবন। কলকাতা, দার্জিলিং ও বারাকপুর-রাজ্যের তিন জায়গার রাজভবনের নাম বদলে হল ‘লোকভবন’।
গত ২৫ নভেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। যেখানে বলা হয় রাজভবনের নাম পরিবর্তন করে লোকভবন করা হবে। মূলত, রাজভবন নামটির সঙ্গে ‘রাজত্ব-রাজা’ ইত্যাদি ধারণা জড়িত রয়েছে। সেই কারণে ‘রাজ’ শধটি সরানোর আবেদন করেছিলেন সিভি আনন্দ বোস। আর রাজভবন যেহেতু আপামর সাধারণ মানুষের জন্য, সেই কারণে রাজ্যপাল চেয়েছিলেন, এমন একটি নাম হোক যা সাধারণ মানুষের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে। সেই কারণেই এই পরিবর্তন। পরবর্তীতে সব রাজ্যের রাজ্যপালরাই এই নাম পরিবর্তনের পক্ষে ছিলেন। এরপরই সম্মতি দেয় কেন্দ্র। আর কেন্দ্রের সম্মতি পেতেই রাজভবনে থাকা পুরনো নামের ফলক বদলে দেন রাজ্যপাল বোস।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, সারা দেশে রাজভবন এবং রাজনিবাসের নামকরণ যথাক্রমে লোকভবন ও লোকনিবাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বলেন, ‘এখন থেকে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ববর্তী রাজভবনগুলিকে সকল উদ্দেশ্যে ‘লোকভবন’ নামকরণ করা হল।’
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তিও এই নিয়ে জারি করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু রাজ্যপালের অনুরোধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তৎকালীন রাজভবনের প্রতীকী চাবি হস্তান্তর করেন। তারপর, জনগণের রাজভবন-জন রাজভবনের এক নতুন যুগের সূচনা হয়। এর পর গত ২৫ নভেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে যে এবার থেকে রাজভবনের নাম হবে লোকভবন।
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বলেন, ‘কলকাতার তৎকালীন রাজভবন কর্তৃক ‘জনরাজ ভবন’ ধারণাটি জনগণের চাহিদা, আশা ও তাদের আকাঙ্ক্ষা, তাঁদের সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করার তাগিদেই তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে, এই বিশাল ভবনটি ছিল ‘ভয়’ ও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সমাজের সকলস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে নিরাপদ উন্মুক্ত রাজভবন করে তোলা। যার মাধ্যমে গত তিন বছরে বেশ কয়েকটি গঠনমূলক জনকেন্দ্রিক কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।’
সূত্রের দাবি, আনুষ্ঠানিকভাবে জন রাজভবন উদ্যোগের একটি মূল উপাদান ছিল জনগণের সেবায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করা। যখনই প্রয়োজন পড়বে, তখন তাঁদের পাশে থাকা। যে পশ্চিমবঙ্গের সর্বত্র, যখনই কোনও জরুরি পরিস্থিতি (হিংসার ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নৃশংসতার অভিযোগ) তৈরি হয়েছে, তখনই রাজ্যপাল ছুটে গিয়েছেন। অথবা, রাজভবন আক্রান্তদের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়েছে। দুÜৃñতী অপরাধকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি রিপোর্ট তৈরি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠিয়েছেন বহুবার। যে তালিকার নবতম সংযোজন বিশেষ নিবিড়র সমীক্ষা পর্বে হাকিমপুর সীমান্ত পরিদর্শন এবং মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন।
উল্লেখ্য, শনিবার নাম পরিবর্তনের পর ভিক্টোরিয়া যান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সেখানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। শিশুদের চকোলেট দেন। তাঁদের সঙ্গে ছবি তোলেন। এমনকী, রাস্তায় চা পান করতেও দেখা যায় রাজ্যপালকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *