১০ লক্ষাধিক আবেদন কম শিক্ষাকর্মী নিয়োগে অনীহা!
দিন দর্পণ, কলকাতা ২০১৬ সালের গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি প্যানেল বাতিল করেছে আদালত। তারপর ফের নতুন করে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি’তে আবেদনের প্রক্রিয়াকরণ শুরু করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। তাতে দেখা যাচ্ছে এখনও পর্যন্ত স্কুলে স্কুলে এই নিয়োগের জন্য প্রায় ৮ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। অথচ ২০১৬ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশন যখন এই একই প্রক্রিয়া শুরু করেছিল তখন শিক্ষাকর্মী পদের জন্যই কমপক্ষে ১৮ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। সেই সময় এই আবেদনের সংখ্যা দেখে রেকর্ড আবেদন জমা পড়েছে বলা হয়েছিল। তাই ২০১৬ সালের তুলনায় এখনও পর্যন্ত ৫০ শতাংশেরও কাছাকাছি পৌঁছায়নি সেই আবেদনের সংখ্যা। তাই প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে তাহলে কি এবার ßুñলে ßুñলে শিক্ষাকর্মী পদেও যোগ দিতে অনিহা প্রকাশ করছেন চাকরিপ্রার্থীরা। গ্রুপ ডি পদে যোগদানের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা মান মাধ্যমিক থাকা দরকার। তাই ভাবা হয়েছে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি পদের জন্য আবেদন প্রচুর সংখ্যায় জমা পড়বে। অথচ এখনও মাত্র ৮ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। এই আবেদন প্রক্রিয়া ৩ ডিসেম্বর বিকের ৫টা পর্যন্ত থাকবে। গ্রুপ সি ও ডি মিলিয়ে শূন্য পদের সংখ্যা দুটি মিলিয়ে প্রায় ৮ হাজারের কাছাকাছি। কিন্তু কমিশনও বুঝতে পারছে না এই কম পরিমাণ আবেদনপত্র কেন জমা পড়ছে। সেই সঙ্গে উঠছে প্রশ্ন, তাহলে কি শিক্ষাকর্মী পদে যোগদানের জন্য প্রার্থীদের মধ্যে অনিনীহা তৈরি হয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রাথমিক ßুñলের শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ শুরু হয়েছে ২৬ নভেম্বর থেকে। এদিকে এসএসসি নিয়োগ নিয়ে চলছে আন্দোলন। নতুন যারা পরীক্ষা দিয়েছিলেন তাঁদের প্রশ্ন যে প্যানেল আগে বাতিল হয়েছে সেই চাকরির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কেন ১০ নম্বর দেওয়া হবে। ইন্টারভিউতে ডেমো ক্লাসের জন্য ১০ নম্বর বরাদ্দ করা রয়েছে। নতুনদের অনেকেই তো এখানে পিছিয়ে যাবে। এই প্রশ্ন নিয়ে হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে দুটি মামলা। স্বীকৃত বেসরকারি ßুñল শিক্ষকরা অতিরিক্ত ১০ নম্বর পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন এই মামলায়। অন্যদিকে নিয়ম না থাকলেও পার্ট টাইম শিক্ষকরা অনেকেই এই নম্বর পেয়ে গিয়েছেন বলে উচ্চ আদালতে আরও এক দায়ের হওয়া মামলায় দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় পদক্ষেপ স্কুল সার্ভিস কমিশনের। নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৬৯ জন অযোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এঁরা লিখিত পরীক্ষা ও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন, যদিও তাঁদের নাম আগেই অযোগ্য তালিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পুনরায় যাচাই শুরু হলে এই প্রার্থীদের চিহ্নিত করা হয়। কমিশন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, অযোগ্য প্রার্থীরা যেন অবিলম্বে নিজেদের নাম জানান। পাশাপাশি, যদি কেউ অযোগ্য প্রার্থীর নাম খুঁজে পান, তবে তা এসএসসি বা অ্যাডভোকেট জেনারেলের মাধ্যমে জানাতে হবে।
ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ এসএসসিকে নির্দেশ দিয়েছে, চলতি বছরের নিয়োগ পরীক্ষার ওএমআর শিট আপলোড করতে হবে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ প্যানেলের নিয়োগ তালিকা আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে আদালতে জমা দিতে হবে। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের বিষয়ে এসএসসি সিদ্ধান্ত বদল করেছে। কারণ, আগে বলা হয়েছিল, অযোগ্য হলেও তাঁরা সুযোগ পাবেন। পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অযোগ্য ৮ জন প্রতিবন্ধী প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে এসএসসি-র চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার জানান, অনেক প্রার্থী বাবার নামের পরিবর্তে মায়ের নাম ব্যবহার করে আবেদন করেছিলেন। কমিশন আবারও তালিকা খতিয়ে দেখে এই ২৬৯ জনকে চিহ্নিত করেছে।

