‘প্রথমবার ভারতের জার্সি পরার মতোই পুলিশের উর্দি পরার অনুভূতি’
(সাব) বিশ্বকাপ জেতার ১ মাস পর অনুশীলন শুরু রিচার
আশা কৈরী, রাজন্যা নিউজ
বিশ্বকাপ জেতার পুরো এক মাস পর ব্যাট হাতে অনুশীলনে নেমে পড়লেন বাংলা তথা টিম ইন্ডিয়ার উইকেটকিপার ব্যাটার রিচা ঘোষ। বৃহস্পতিবার, দুপুরে ব্যাট হাতে ঘন্টা খানেক যাদবপুর ক্যাম্পাসের গ্রাউন্ডে অনুশীলন করলেন। সঙ্গে ছিলেন বাবা মানবেন্দ্র ঘোষ।
রিচাকে এদিন বেশ চনমনে দেখাচ্ছিল। মেদ কমানোর দিকে বেশ নজর তাঁর। তাই কিটস ব্যাগ গুচ্ছিয়ে নিজেই সিয়েট জিপ ড্রাইভ করে চললেন জিমে। পাশের সিটে বাবা। মেয়ে রিচাকে উদ্দেশ্যে করে বলছেন, সাবধানে চালাস।
অনুশীলনের পর বেশ কয়েকজন ক্রিকেটপ্রেমীদের সেলফি তোলার ইচ্ছে পূরণ করেন। শুধু গাড়ি নয়, বুলেট বাইকও চালান। হাসি মুখে রিচা বলেন, ‘এক মাস বেশ ঘুরেছি, সময়টা এনজয় করেছি। বুলেটে করে মা-বাবাকে নিয়ে বেড়াতে গেছি। এবার নিজের লক্ষ্যে নেমে পড়েছি। লক্ষ্য সম্পর্কে পাওয়ার হিটার রিচা বলেন, ‘সামনে প্রচুর ম্যাচ। মহিলাদের প্রিমিয়ায লিগ, সিরিজ। তার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সামনের বছর ইংল্যান্ডে টি-২০ বিশ্বকাপ জেতা। ওটাই এখন আমার প্রধান লক্ষ্য।’ বিশ্বকাপে রিচা ৮ ম্যাচে ১৩৩.৫২ ßT্রাইক রেটে মোট ২৩৫ রান করেছিলেন।
নেটে ব্যাট হাতে বেশ স্বচ্ছ ছিলেন রিচা। পাওয়ার হিটার কখন কভার ড্রাইভ আবার ফ্লিকও করেন। নেটে রিচাকে বল করছিলেন ছেলে বোলাররা। ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজ খেলবে টিম ইন্ডিয়া। ২১ এবং ২৩ ডিসেম্বর, প্রথম দুটো ম্যাচ বিশাখাপত্তনমে। বাকি তিনটে ম্যাচ তিরুঅনন্তপুরমে যথাক্রমে ২৬, ২৮ এবং ৩০ ডিসেম্বর।
হরমনপ্রীতের হাতে একদিনের বিশ্বকাপ উঠেছে ২ নভেম্বর, নবি মুম্বইয়ে। বাংলার রিচার অনেক অবদান রয়েছে বিশ্বকাপ জয়ে। এখন এটা অতীত। সামনের লক্ষ্য পূরণ করার জন্য আবার অনুশীলন শুরু করে দিলেন। শিলিগুড়ির মেয়ে রিচা এখন ম্যাচ না থাকলেও কলকাতাই থাকেন।
প্রথমবার ভারতের মেয়েরা বিশ্বকাপ জিতেছে। আবার প্রথমবার কোনও বাঙালি ক্রিকেটার বিশ্বকাপ জিতল রিচার হাত ধরে। বৃহস্পতিবার অনুশীলন শুরু করার আগেই, বুধবার নতুন একটি ইনিংস শুরু করেছিলেন রিচা, রাজ্য পুলিশের ডিএসপি দায়িত্ব নিয়ে। ডিএসপি-র পোষাকে ড়ত বুধবার রিচাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। পুলিশের উর্দি পরা প্রসঙ্গে রিচা বলেন, ‘ছোট বেলায় পুলিশ কিংবা আর্মিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে ছিল আমার। মুখ্যমন্ত্রী যখন পুলিশের ডিএসপি পদে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছিলেন খুব খুশি হয়েছিলাম। প্রথমবার ভারতের জার্সি পরার যেরকম অনুভূতি হয়েছিল। কিছুটা পার্থক্য থাকলেও পুলিশের উর্দি পরে বুধবার সেরকমই অনুভূতি হয়। ’

