শাহের মন্তব্যেই জল্পনা মুখ্যমন্ত্রী পদে অনিশ্চিত নীতীশ!
রাজন্যা নিউজ ব্যুরো
বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ফের রাজনৈতিক অন্দরে তীব্র জল্পনা, এনডিএ জোট যদি ক্ষমতায় ফিরে আসে, তবে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে ফের বসবেন কি নীতীশ কুমারই? যদিও তার কোনও সুস্পষ্ট উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে নীতীশকে মুখ্যমন্ত্রী নাও করা হতে পারে। আর সেই জল্পনা উস্কে দিয়েছেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাহ স্পষ্ট বলেছেন, ‘এই নির্বাচনে এনডিএ লড়ছে নীতীশজির নেতৃত্বে। ভোটের পর সব শরিক মিলে সিদ্ধান্ত নেবে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন। আমি একা এই বিষয়ে কিছু বলার মানুষ নই।’ শাহের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, জেডিইউ ও বিজেপির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নেতৃত্ব ও সমীকরণ নিয়ে গুঞ্জন চলছে। এনডিএ শিবিরের অন্দরে মত পার্থক্যের ইঙ্গিত বহুবার সামনে এসেছে। আর তাতেই মনে করা হচ্ছে এনডিএ জিতলে নীতীশ মুখ্যমন্ত্রী নাও হতে পারেন।
অমিত শাহ সাক্ষাৎকারে ২০২০ সালের নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ‘সেই সময় নীতীশ কুমার নিজেই প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলেন, বিজেপির আসন বেশি, তাই বিজেপির থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া উচিত। কিন্তু আমরা জোটের মর্যাদা রেখেছিলাম। নীতীশজিকে তাঁর অভিজ্ঞতা ও সিনিয়রিটির জন্যই মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছিল।’
নীতীশ কুমারের ঘনঘন দলবদল ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিরোধীরা যে প্রশ্ন তুলছে, শাহ সেসব খারিজ করে বলেন, ‘নীতীশজি কখনও প্রকৃত অর্থে কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলেন না। মাত্র দুই আড়াই বছরের সম্পর্ক ছিল। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল জেপি (জয়প্রকাশ নারায়ণ) আন্দোলন থেকে। যা ছিল ইন্দিরা গান্ধির কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।’
বিরোধীদের আক্রমণ ও ‘স্বাস্থ্য জল্পনা’ নিয়েও মুখ খুলেছেন শাহ। বিরোধীরা সম্প্রতি নীতীশ কুমারের বয়স ও স্বাস্থ্যজনিত কারণে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অস্থিরতা আসছে বলে দাবি করছে। সেই প্রসঙ্গে শাহ বলেন, ‘আমি বহুবার নীতীশজির সঙ্গে কথা বলেছি। এমন কোনও সমস্যা কখনও দেখিনি। বয়সজনিত কিছু বিষয় স্বাভাবিক। কিন্তু বিহারের প্রশাসন একযোগে পরিচালনা করছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর টিম’। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাহের এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিজেপি একদিকে যেমন নীতীশ কুমারের প্রতি ‘সম্মান’ প্রদর্শন করল, অন্যদিকে ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব নিয়ে দরজাও খোলা রাখল। বিহারের মাটিতে এনডিএ শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ যে এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়, শাহের মন্তব্যে তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে।
২০২০ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জেডিইউ-র চেয়ে বেশি আসন পেলেও মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেন নীতীশ কুমার। পরে ২০২২ সালে তিনি এনডিএ ছেড়ে মহাগঠবন্ধনে যোগ দেন, আবার গত বছর বিজেপি জোটে ফিরে আসেন। বর্তমানে রাজ্যের রাজনীতি ফের এক অস্থির ভারসাম্যে দাঁড়িয়ে। আর সেই কারণেই শাহের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
বিরোধী শিবিরের তরফে ইতিমধ্যেই এই মন্তব্যকে ‘নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। তেজস্বী যাদব বলেছেন, ‘নীতীশ কুমার এখন আর নিজের দলেরও নেতা নন, বিজেপির দূরনিয়ন্ত্রিত মুখ।’ সবমিলিয়ে নীতীশের গদি টালমাটাল বলেই মনে করা হচ্ছে।

