বাঁজা জমিতে হোক শিল্প! মুখ্যমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে সিঙ্গুর
কল্যাণ অধিকারী, রাজন্যা নউজ
প্রধানমন্ত্রী শিল্পের বার্তা না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ সিঙ্গুরের বাসিন্দাদের একাংশ। প্রধানমন্ত্রীর পরে এবার সিঙ্গুরে যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। আগামী আঠাশে জানুয়ারি সিঙ্গুরে জনসভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই দিন ওই মঞ্চে থাকতে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসনিক কর্মসূচির পাশাপাশি রাজনৈতিক সভা করার কথা। বিধানসভা ভোটের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আবারও সিঙ্গুর। চাইছে বাঁজা জমিতে হোক শিল্প! কারখানার মুখ দেখুক চর্চিত সিঙ্গুর।
২০০৮ সালের ৩ অক্টোবর রতন টাটা ঘোষণা করেছিলেন, সিঙ্গুরে টাটাদের কারখানা থাকবে না। চলে যায় গুজরাট। তবে এই সিঙ্গুর মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে পৌঁছনোর পথ প্রশস্ত করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ক্ষমতায় এসে প্রথমেই অনিচ্ছুক চাষিদের জমি ফেরত দিতে আইন তৈরি করেন মমতা। ২০১৬ সালে সিঙ্গুর মামলায় জমি ফেরতের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। তারপর সিঙ্গুরের মাটিতে সরিষা বীজ ছড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকে বিস্তর জল গড়িয়েছে। না হয়েছে সরিষা, না হয়েছে শিল্প। প্রধানমন্ত্রী আসবার খবরে আশার আলো জেগেছিল রাজ্যের মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে শিল্পের আশ্বাস মিলবে। কিন্তু গত আঠেরোই জানুয়ারি সিঙ্গুরের মাটিতে জনসভা করেও বড় শিল্প-ঘোষণা করেননি প্রধানমন্ত্রী! এবার সিঙ্গুরে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। যে সিঙ্গুর তাঁকে রাজনৈতিক জমি দিয়েছে। যে সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক চাষিদের জমি ফিরিয়ে দিয়েছেন। এবার শিল্পের জন্য কারখানা গড়ুক দিদি, চাইছেন সিঙ্গুরের মানুষ।
২৬-এর ভোট দোরগোড়ায়। এমন একটি সময় সিঙ্গুরকে রাজনৈতিক খেলায় নেমেছে দাদা-দিদি বলছে সিপিএম-কংগ্রেস। হুগলি জেলার বাম নেতাদের কথায়, প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরে আসলেন কিন্তু শিল্পের আশ্বাস দিলেন না। এবার মমতা আসছেন। সেখানে কি ধানের চারাবীজ পুততে? টাটা চলে যাওয়ার পর আর রাজ্যে কোন বড় শিল্প আসেনি। এবার নির্বাচনের মুখে সিঙ্গুরের মানুষের কাছে ভোট চাইতে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। বুঝে গেছে সিঙ্গুর।

