আরবি বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ ‘ভুয়ো’ খবরে ক্ষুব্ধ এসএসসি কর্তারা
রাজন্যা নিউজ কলকাতা:
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ইন্টারভিউয়ের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে ßুñল সার্ভিস কমিশন। শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশ করা হয়েছে সেই তালিকা। আর কমিশনের ওয়েবসাইটে তালিকা প্রকাশেরপর থেকেই নানারকম গুজব ছড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। শুধু তাই নয়, বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রেও ফলাও করে ছাপা হয়েছে সেই খবর। যেখানে দাবি করা হয়েছে, আরবি বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগেও নাকি বঞ্চিত করা হয়েছে ‘মুসলিম’ চাকরিপ্রার্থীদের। সেক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে ‘অমুসলিম’ প্রার্থীদের। আদতে এই খবর ‘ভুয়ো’ বলে জানাচ্ছেন ßুñল সার্ভিস কমিশনের কর্তারাই।
ßুñল সার্ভিস কমিশনের তরফে সোমবার এক আধিকারিক জানান, মোট ২৯টি শূন্যপদে তথ্য যাচাইয়ের জন্য ১:৬ অনুপাতে ডেকে পাঠানো হয়েছে ৫১ জন চাকরিপ্রার্থীকে। তালিকা দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যাবে, জেনারেল ক্যাটাগরিতে ডাকা হয়েছে, ১৬ জনকে। জেনারেল ফিমেল ক্যাটাগরিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে, ৪, এসসি ১০, এসসি ফিমেল ১ , এসটি ২, শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্যাটেগরিতে ২, ওবিসি এ-তে ৭ জন, ওবিসি-বি’তে ৫, পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায় ক্যাটেগরি থেকে ৪জনকে তথ্য যাচাইয়ের জন্য ডাকা হয়েছে। এদের মধ্যে শুধুমাত্র এসসি ও এসটি’দের জন্য সংরক্ষিত আসনেই অমুসলিম প্রার্থীদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। সংরক্ষণের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অন্য বিষয়গুলোর মতোই আরবিতেও এই সুবিধা রাখা হয়েছে। যেহেতু মুসলিম সম্প্রদায়ের কেউই এসসি বা এসটি সম্প্রদায়ের মধ্যে পড়ছে না, তাই এক্ষেত্রে মুসলিম প্রার্থীদের ডেকে পাঠানোর প্রশ্নই আসছে না। তাহলে এক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতা কোথায়?
ওই আধিকারিক আরও বলেন, এসসি কিংবা এসটি তালিকা বাদ দিয়ে বাকি সব ক্ষেত্রে দেখা যাবে, কোনও অমুসলিম প্রার্থী সুযোগ পাননি। জেনারেল, ওবিসি-এ কিংবা ওবিসি-বি সহ যেসমস্ত বিভাগ অনুযায়ী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে কোনও অমুসলিম প্রার্থীর নাম নেই।
এদিকে, শনিবার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর রবিবার সকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে প্রচার হতে থাকে, আরবি বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও অমুসলিম প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে মমতা সরকারকে সংখ্যালঘু বিদ্বেষী বলেই অভিযোগ তুলে প্রচারণা চলছে। শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়, বেশ কিছু সংবাদপত্রেও ফলাও করে চাপা হয় এই সংবাদ। আরবি বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সংখ্যালঘুদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলে ভুয়ো অভিযোগ করা হয়। যদিও এই খবরের আদতে কোনও বাস্তবতা নেই বলেই দাবি করেছেন এসএসসি’র ওই আধিকারিক। তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এধরণের ‘ভুয়ো’ খবর প্রচার করা হয়েছে। তাঁর যুক্তি এসসি ও এসটি ক্যাটেগরির যে চাকরিপ্রার্থীদের ডাকা হয়েছে, সংরক্ষণের নিয়ম অনুযায়ীই তা করা হয়েছে।
