নেপাল ও ভুটান সীমান্তে নজরদারি বসছে অত্যাধুনিক যন্ত্র
রাজন্যা নিউজ ব্যুরো দার্জিলিং: দিল্লি বিস্ফোরণ-কাণ্ড ও বাংলাদেশে নতুন করে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জেরে এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নির্দেশে বাংলার তিন সীমান্তে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইন্দো-বাংলাদেশ, ইন্দো-নেপাল এবং ইন্দো-ভুটান সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি করতে এবার এএনপিআর (অটোম্যাটিক নম্বর প্লেট রিডার) বসানোর নির্দেশিকা এসেছে। এই যন্ত্রের মাধ্যমে সীমান্ত ও সংলগ্ন এলাকায় চলাচলকারী সমস্ত গাড়িকেই চিহ্নিত করা হবে।
প্রথম ধাপে ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কিতে এবং ভারত-ভুটান সীমান্তের জয়গাঁ ও চামুর্চিতে এএনপিআর বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই মতো কাজও শুরু করেছে এসএসবি। এএনপিআর হল স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির নম্বর প্লেট চিহ্নিত করার ক্যামেরা। দেখতে সিসি ক্যামেরার মতো হয়। বিভিন্ন এলাকার ট্রাফিক পুলিশ এই এএনপিআর ব্যবহার করে থাকে। এর মাধ্যমে নির্ভুলভাবে গাড়ির নম্বর পড়তেই এই যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
যেকোনও গাড়ি কিংবা বাইক এই যন্ত্রের আওতাধীন এলাকার মধ্যে দিয়ে গেলেই তাতে নম্বর প্লেটের ছবি উঠে যায়। সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোলরুমে ওই গাড়ি কিংবা বাইকের সমস্ত তথ্য ও মালিকের নাম-পরিচয় পরিবহণ দফতরের মাধ্যমে চলে আসবে। এরপর সেই তথ্য ধরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে নিরাপত্তা সংস্থা। পাশাপাশি সীমান্তে সিসি ক্যামেরার সংখ্যা বৃদ্ধি করার নির্দেশিকাও এসেছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে।
এসএসবি সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সীমান্তে স্বাভাবিক নজরদারির পাশাপাশি ধীরে ধীরে প্রযুক্তিগত নজরদারিতে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশিকা এসেছে। দিল্লি বিস্ফোরণের পর নেপাল এবং ভুটান সীমান্ত এলাকায় বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বৃদ্ধি করা হয়েছে পেট্রোলিংও। এই বিষয়ে ডিআইজি এবং কমান্ডান্টদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দিল্লিতে লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় পলাতক কোনও সন্ত্রাসবাদী যাতে ভারত ছেড়ে অন্য দেশে চলে যেতে না-পারে বা কেউ প্রবেশ করতে না-পারে, তার জন্যই এই পদক্ষেপ। এসএসবির উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের আইজি বন্দন সাক্সেনা বলেন, ‘সীমান্তে এএনপিআর বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। বিস্ফোরণের পর দেশজুড়েই কাজ শুরু হয়েছে। সীমান্তে যাতায়াতকারী প্রতিটি গাড়ির উপর বিশেষ নজর রাখা হবে। নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। আমরা চাই না কোনও সন্ত্রাসবাদী প্রবেশ করুক। এছাড়াও অবৈধ দখলদার সরাতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’ পশ্চিমবঙ্গে এসএসবি’র নজরদারিতে ৫৪৬.৬ কিলোমিটার থাকা সীমান্ত রয়েছে। যার মধ্যে শিলিগুড়ি ফ্রন্টিয়ারের অধীনে রয়েছে ২৮৪ কিলোমিটার। এসএসবি সূত্রে খবর, এই ২৮৪ কিলোমিটারের মধ্যে এখনও বেশ কয়েক কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতাঁর নেই। দিল্লি বিস্ফোরণের পর সন্ত্রাসবাদীরা পালাতে যেকোনও সীমান্তই ব্যবহার করতে পারে। বিশেষ করে শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করে নেপাল, বাংলাদেশ এবং ভুটান সীমান্ত হওয়ায় এই এলাকায় বিশেষ নজরদারি দিতে বলা হয়েছে। তাই সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ এসেছে।

