শেষ দিনের ক্লাসে হাসিমুখে পড়ুয়ারা মন খারাপ শিক্ষকদের
কল্যাণ অধিকারী এডিটর রাজন্যা নিউজ
সোমবার থেকেই পড়ছে গরমের ছুটি। মাঝে রবিবার থাকায় সরকারি স্কুলগুলিতে শনিবার শেষ ক্লাস হয়ে ছুটির ঘন্টা পড়ে গেল। বন্ধুদের সঙ্গে, শিক্ষিক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে দেখা হতে-হতে মে মাসও গড়িয়ে যাবে। কিন্তু শৈশবদের মন আটকা থাকে কেমনে। স্কুলের পরীক্ষায় কালারফুল মুখোশ তৈরি করে দেখাল। স্কুল ছুটির আগে মন ছুঁয়ে গেল শিক্ষকদের।
আমতা-২ ব্লকের অন্তর্ভুক্ত জয়পুর থানার অমরাগড়ি গ্রাম। এখানেই অবস্থিত মেনকা স্মৃতি বিদ্যামন্দির (নিম্ন বুনিয়াদি) স্কুল। গরমের ছুটির আগেই প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলিতে হয়ে গেল এই শিক্ষাবর্ষের প্রথম পর্বের পরীক্ষা। বিদ্যালয়ে কলাশিক্ষার পরীক্ষায় সবার থেকে ব্যতিক্রমী ভুমিকায় দেখা গেল স্কুলের পড়ুয়াদের। মেনকা স্মৃতি বিদ্যামন্দির (নিম্ন বুনিয়াদি) স্কুলে বছরভর ছোট ছোট পড়ুয়াদের সৃজনশীল হস্তশিল্পের বিভিন্ন ধরনের জিনিস তৈরি শেখানো হয়। পরীক্ষার সময় তার প্রয়োগ করে ছাত্রছাত্রীরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম ইয়াজদানি বাবু পড়ুয়াদের হাতের কাজ দেখে আপ্লুত।

প্রধান শিক্ষকের কথায়, “ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাথমিক স্তর থেকে ছোটো-ছোটো কুটির শিল্পের কাজ শেখালে বুদ্ধির বিকাশ ঘটবে। পড়াশোনা ও স্কুলের প্রতি ওদের আগ্রহ বাড়বে। একি সঙ্গে ওরা বড় হয়ে এই শিক্ষা গুলোকে কাজে লাগাতে পারবে। স্কুলের সহকারি শিক্ষক সৌভিক চৌধুরি জানান, “এর আগে স্কুলে পঠন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিদ্যালয়ের দেওয়াল পত্রিকা ‘সোপান’ প্রকাশ পেয়েছে। ওরা হস্তশিল্প, আবৃত্তি-সঙ্গীত-গল্পপাঠ-নৃত্য শৈলীতে আরো অনেক এগিয়ে যাক। বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করুক।”
জানা গেছে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের কলাশিক্ষা পরীক্ষার থিম ছিল সিংহের মুখোশ। গ্রাম বাংলার দিকে মুখোশ খুব জনপ্রিয়। ছোটো ছোটো পড়ুয়াদের কাছে ভীষন আকর্ষণীয় এই মুখোশ। বাড়িতে অব্যবহৃত কাগজ দিয়ে মুখোশ তৈরি করে আনন্দে মেতে উঠলো সকলে। ক্লাসে পড়ে তা দেখাল শিক্ষকদের। এতকিছুর পরেও মন খারাপ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। গরমের ছুটিতে বহুদিন দেখা মিলবে না। ওদের দুষ্টুমি সইতে সইতে অজান্তেই ওদের দুষ্টুমি ভালবাসায় পরিণত হয়ে গিয়েছে।

