এসআইআরে একাধিক মৃত্যুতে উদ্বিগ্ন সুপ্রিম কোর্ট

রাজন্যা ব্যুরো, নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন তথা এসআইআর এর কাজে যুক্ত বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) রহস্যজনক ও আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে এই কর্মীদের নিরাপত্তা ও সঠিক কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা রাজ্য সরকারেরই দায়িত্ব।
আদালত জানায়, অতিরিক্ত দায়িত্ব ও অস্বাভাবিক সময়সীমায় কাজ করতে বাধ্য হওয়ায় অনেক কর্মীর স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। ফলে অবিলম্বে কাজের চাপ কমাতে হবে। যেখানে ১০ হাজার কর্মী কাজ করছেন, সেখানে চাইলে ২০ বা ৩০ হাজার কর্মী নিয়োগ করা যেতে পারে, ঠিক এমনই পর্যবেক্ষণ রাখে আদালত।
সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেছে, কোনও বিএলও অসুস্থ বা ব্যক্তিগত কারণে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে বিকল্প কর্মী নিয়োগের সুযোগ রাখতে হবে। যেসব কর্মী দায়মুক্তি চাইবেন, তাঁদের আবেদন আলাদা ভাবে বিবেচনা করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। গত এক মাসে দেশের ১২টি রাজ্যে এসআইআর কার্যক্রমের মাঝে বহু বিএলও এর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারগুলি অভিযোগ করছেন অতিরিক্ত চাপ, নিরন্তর তদারকি ও অস্বাভাবিক কাজের চাপই এই মৃত্যুগুলির মূল কারণ। কারও হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে, আবার কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি সহ বিভিন্ন বিরোধী দল। কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন তুলে ধরেই দাবি করেন এসআইআর কোনও সংস্কার নয়, এটি জনগণের ওপর ‘আরোপিত অত্যাচার’।

রাহুলের অভিযোগ ‘তিন সপ্তাহে ১৬ জন বিএলও প্রাণ হারিয়েছেন। হূদরোগ, মানসিক চাপ, আত্মহত্যা এসআইআর এখন অত্যাচারের প্রতীক হয়ে উঠেছে।’ মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, পশ্চিমবঙ্গ, রাজস্থান, তামিলনাড়ু ও কেরল এই সাত রাজ্যসহ মোট ১২টি রাজ্য থেকে এসআইআর সংক্রান্ত মৃত্যু সামনে এসেছে। আদালতের কঠোর পর্যবেক্ষণের পর এখন রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *