বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটান রাজ্যকে সুপ্রিম নির্দেশ

রাজন্যা নিউজ ব্যুরো, নয়াদিল্লি

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ ৩১ মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে বকেয়া ডিএ প্রদান সংক্রান্ত বিষয়টি চূড়ান্ত করতে একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। ওই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা। কমিটির অন্যান্য দুই সদস্যও বিচারপতি পদমর্যাদার হবেন। এই কমিটি রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ডিএ প্রদানের রূপরেখা স্থির করবে।
রাজ্যের আবেদন খারিজ করে সরকারি কর্মচারিদের পক্ষে রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। সেই মামলায় রাজ্যকে আগেই বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। এ জন্য ছ’সপ্তাহ সময়ও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই সময়সীমার মধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের ডিএ দিতে পারেনি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়েছিল শুনানি। এরপরই বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি সঞ্জয় করোল। এদিন বিচারপতি সাফ জানান, ডিএ আইনি অধিকার, বকেয়া ডিএ দিতেই হবে। বকেয়া ডিএ দেওয়ার বিষয়ে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত কমিটির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্র থাকছেন। কমিটিতে থাকছেন হাইকোর্টের বিচারপতি গৌতম বিধুরি, বিচারপতি ত্রিলোচন সিং চৌহান। এছাড়াও কমিটিতে থাকবেন কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা তাঁর অধীনস্থ কোনও আধিকারিক। এছাড়াও কয়েকজন থাকতে পারবেন। বাকি সদস্যরা কারা হবেন, সেটা বিচারপতি মালহোত্র ঠিক করতে পারবেন। এই কমিটি রাজ্য সরকারে সঙ্গে আলোচনা করে ডিএ দেওয়ার বিষয়টি স্থির করবে। সেইসঙ্গে আদালতের নির্দেশ কার্যকর হল কিনা, সেটি জানাতে একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট ১৫-মের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে হবে। কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে কত কি ডিএ দিতে হবে। এর পাশাপাশি শীর্ষ আদালত এদিন এও তার রায়ে জানিয়েছে ডিএ পরিবর্তনশীল। এর পাশাপাশি এদিনের এই রায়ে শীর্ষ আদালতের তরফ থেকে এও জানানো হয়, ডিএ মৌলিক অধিকার নয়। ডিএ বছরে দু’বার পাওয়া উচিত কিনা, সেই প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ‘আমরা মনে করি ডিএ দুবার করে দেওয়া যায় না।’ ১ এপ্রিল ২০০৮ থেকে ৩১ নভেম্বর পর্যন্ত বকেয়া দিতে হবে।
এদিকে এই ডিএ মেটাতে গেলে রাজ্যকে ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা দিতে হবে। কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতা ও বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর দাবিতে প্রায় দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালাচ্ছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশ। কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের ডিএ নিয়ে যে ফারাক সেই নিয়ে আন্দোলন চলছিল।
বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের এই রায়ের পর চওড়া হাসি কর্মচারিদের মুখে। কারণ, এ দিন দুই বিচারপতির বেঞ্চ একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন কমিটি এই গোটা বিষয়টি তদারকি করবে। ১৫ মে-র মধ্যে কমিটি রিপোর্ট জমা দেবে। তবে, মহার্ঘ্য ভাতা মৌলিক অধিকার কি না তা এখনই নির্ধারণ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। এদিনের এই রায় প্রসঙ্গে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, ‘বিচারপতিরা ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। কোর্ট বলেছে, ডিএ দিতে হবে। কর্মচারিদের জয় হয়েছে। ২৫ শতাংশ এরিয়ার সহ ডিএ ৩১ মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। একটি কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়েছে।’
তবে এই রায় রাজ্যের জন্য বড় ধাক্কা অন্তত তেমনটা মানছে না তৃণমূল। শাসকদলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর দাবি, সুপ্রিম কোর্ট বুঝতে পেরেছে কেন্দ্র কীভাবে রাজ্যের সঙ্গে বঞ্চনা করে। তাই ২৫ শতাংশের কথা নিজে বলেছে। এদিনের শীর্ষ আদালতের রায় প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘আদালতের সমালোচনা তিনি বা তাঁর দল করতে পারেন না। সুপ্রিম কোর্টকে একটা জায়গায় ধন্যবাদ যে এই রায়ের মাধ্যমে কোর্ট বুঝিয়েছে-কেন্দ্র ও রাজ্যের সঙ্গে যে বিমাতৃসুলভ আচরণ করেছে তাতে রাজ্যের জন্য এই মুহূর্তে একশো শতাংশ বকেয়া ডিএ দেওয়া অসম্ভব। তার জন্য ২৫ শতাংশের কথা কোর্ট নিজে বলেছে। কারণ কিছুদিন আগে সুপ্রিম কোর্টই একশো দিনের টাকা দিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিল। সেই ৫২ হাজার কোটি টাকা এখনও দেয়নি। তাই সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ভারসাম্য রক্ষা করেছে। রাজ্য তো কর্মচারিদের প্রতি সহানুভূতিশীল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *