মহিলাদের বছরে ৩০ হাজার কৃষকদের বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ভরপুর প্রতিশ্রুতি তেজস্বীর
রাজন্যা নিউজ ব্যুরো
বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার প্রচার শেষ হওয়ার মুখে মঙ্গলবার ভোটারদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন আরজেডি নেতা ও মহাগঠবন্ধনের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তেজস্বী যাদব। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাঁর জোট ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মহিলারা পাবেন বছরে ৩০ হাজার টাকা অনুদান। এছাড়া কৃষকরা সেচের জন্য বিনামূল্যে বিদ্যুতের সুবিধা পাবেন। তেজস্বী বলেন, ‘মাইয়া বহিন মান যোজনার আওতায় আগামী ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি থেকে এই প্রকল্প চালু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মহিলাদের অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে বছরে মোট ৩০ হাজার টাকা জমা হবে।’ আরজেডি-কংগ্রেস জোটের নির্বাচনী ইস্তাহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি এই প্রকল্প, যার লক্ষ্য অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মহিলাদের সাহায্য করা। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার সরকারের তরফে ২৫ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয় উদ্যোক্তা ও স্বনির্ভরতা প্রকল্পের আওতায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মহিলাদের ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করেই উভয় পক্ষের এই ঘোষণাগুলি এসেছে। এ দিন তেজস্বী বলেন, ‘জনতা পরিবর্তনের মেজাজে আছে। এবার এনডিএ সরকারকে মানুষ বিদায় দেবে।’
তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, ‘কৃষকদের সেচের জন্য বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। ধানের ক্ষেত্রে এমএসপি-র উপরে প্রতি কুইন্টালে ৩০০ টাকা এবং গমের ক্ষেত্রে ৪০০ টাকা বোনাস দেওয়া হবে।’
এছাড়া তিনি সরকারি কর্মীদের জন্য পুরনো পেনশন স্কিম ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেন। স্বাস্থ্যকর্মীদের পোস্টিং তাঁদের নিজের জেলার ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে রাখার কথাও ঘোষণা করেন। পাশাপাশি, প্রাইমারি এগ্রিকালচারাল ক্রেডিট সোসাইটি’র প্রতিনিধিদের জনপ্রতিনিধির মর্যাদা এবং ম্যানেজারদের জন্য সাম্মানিক চালুর কথাও বলেন তিনি। ঘটনা হল বিহারে গত দু’দশক ধরে মহিলা ভোটের উল্লেখযোগ্য অংশ জেডিইউ’র পক্ষে রয়েছে বলে রাজনীতির কারবারিরা মনে করেন। সেই জায়গা থেকে এবার মহিলা ভোটকে বিশেষভাবে টার্গেট করেছেন তেজস্বী। রাজনৈতিক মহল মনে করছে এনডিএ শিবিরের পক্ষে থাকা মহিলা ভোটের একাংশ নিজেদের দিকে টানতে পারলেই ভোটের ফলাফল বদলে যেতে পারে। সেই লক্ষ্যেই তেজস্বীর এই আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আগামী ৬ নভেম্বর বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। মঙ্গলবার ছিল প্রচারের শেষ দিন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি এই নির্বাচনে ‘মদ নিষেধাজ্ঞা’-র বিষয়টিও রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিককালে বিহার বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে যে সমস্ত ওপিনিয়ন পোল বা ভোট সমীক্ষা সামনে এসেছে, তার অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এমনকী পছন্দের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে একটি সমীক্ষায় নীতীশ কুমারকে পিছনে ফেলে দিয়েছেন তেজস্বী। যে বিষয়টি নিঃসন্দেহে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে গেরুয়া শিবিরকে। এই পরিস্থিতিতে প্রথম দফার ভোট প্রচারের শেষ লগ্নে তেজস্বী মহিলা ভোটারদের যেভাবে বিশেষ বার্তা দিলেন, তার যথেষ্ট রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে।

