বাবরি মসজিদের সূচনা হল বাংলায়

রাজন্যা নিউজ ব্যুরো মুর্শিদাবাদ

৬ ডিসেম্বর ফের একটা বাবরি মসজিদ তৈরির সূচনা হয়ে গেল। লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগমে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় শুরু হয়ে গেল বাবরি মসজিদ তৈরির কাজ। সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা স্বনামধন্য দুই ক্বারী এই মসজিদের কাজের সূচনা করেছেন। বাবরি মসজিদের কাজের সূচনা ঘিরে এলাহি আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ি।
হুমায়ুন কবির আগেই জানিয়েছিলেন, বাবরি মসজিদের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপনের অনুষ্ঠানে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের সমাগম হবে। ইসলামের পবিত্র স্থান, মদিনা থেকে দুইজন ক্বারী এদিন সকালেই এসে পৌঁছান বেলডাঙায়। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বিশেষ কনভয়ে তাদের আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতা সন্দেশখালি, ক্যানিং’সহ দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ থেকে কাতারে কাতারে জড়ো হন মুসলিমরা। তাদের মধ্যে অনেককে মাথায় ইট বয়ে আনতে দেখা যায়।
এদিন বেলা ১২ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে কুরআন তেলাওয়াত করে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বাবরি মসজিদের জমিতে প্রথম আযান দেন সৌদি আরবের এক ক্বারী। বাবরি মসজিদের জমিতে আযান দিয়ে পড়া হয় যোহরের নামায। যোহর নামাযের পরেই বেলা একটা কুড়ি মিনিট নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে সূচনা করেন হুমায়ুন কবির।
মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস অনুষ্ঠান থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির। এদিন দুপুরে মূল অনুষ্ঠানের ঠিক কিছুক্ষণ আগে রেজিনগরের মোরাদিঘিতে মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, আমাদের সরকারের স্বাস্থ্য দফতররে মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, পুলিশ দফতরের মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী, সংখ্যালঘু দফতরের মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী, আরও অনেক দফতর নিয়ে তিনি বসে আছেন। বহরমপুর মেডিকেল কলেজে যান। গিয়ে দেখতে পাবেন হাসপাতালে একটা বেডে তিন জন করে রোগী শুয়ে আছেন। কোনও রোগী বেড না পেয়ে নীচে শুয়ে আছেন। স্বাস্থ্যের এমন অবস্থা যে স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে গিয়ে স্বাস্থ্যের আরও অবনতি হচ্ছে। আর এই সরকারের নেতৃত্ব আমাকে বাবরি মসজিদ করতে বাধা দিচ্ছে। এর জবাব গোটা বাংলার মুসলমান সমাজ এই সরকারকে দেবে। বাংলাতে ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ২ কোটি ৮২ লক্ষ ৫৩৩ জন মুসলিম ভোট। তার মধ্যে মাত্র ৪০ লক্ষ অবাঙালি মুসলিম রয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার বহরমপুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থলেই হুমায়ুন জানতে পারেন তাঁকে সাসপেন্ড করে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে এসেও ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ফিরে আসেন। আগেই তিনি জানিয়েছিলেন ২২ ডিসেম্বর নতুন দল গড়বেন। সেদিন আরও জোর দিয়ে জানান, ওই দল বিজেপির বিরুদ্ধে লড়বে, তৃণমূলের বিরুদ্ধেও লড়বে। বাংলায় ১৩৫ আসনে লড়বে। সারা দেশের মিডিয়ার নজর ছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা রেজিনগরের দিকে। ঘোষণা মতো অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ শহিদ করার দিনেই বেলডাঙায় আর একটা বাবরি মসজিদ নির্মাণ কাজের সূচনা করলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির।
কড়া প্রশাসনিক নজরদারিতে এদিন দুপুরে শুরু হয়ে গেল বাবরি মসজি’ নির্মাণ কাজ। সৌদি আরবের দুই বিশিষ্ট ক্বারীদের সঙ্গে নিয়ে লাখো মানুষের জমায়েতে ২০ বছর আগে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাবরি মসজিদ নতুন রূপে মুর্শিদাবাদের স্থাপনের সূচনা করলেন সদ্য তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া হুমায়ুন কবির।
হুমায়ুন জানিয়েছিলেন, পুলিশ অনুমতি না দিলেও কর্মসূচি হবে। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট পুলিশকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলে। শনিবার কড়া পুলিশি পাহারায় রেজিনগরের মরাদিঘিতে ভিত্তি স্থাপনের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি কমবাট ফোর্স’সহ এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন ছিল নজিরবিহীনভাবে।
এদিকে যে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস নিয়ে এত বিতর্ক, সেই মসজিদ নির্মাণ করতে সরকারি টাকা লাগবে না আগেই মন্তব্য করেছিলেন হুমায়ুন। আবারও মঞ্চ থেকে একই কথা বললেন তিনি। হুমায়ুনের দাবি, বাবরি মসজিদ নির্মাণে টাকার অভাব হবে না। রাজ্যের প্রায় সব জেলা থেকে বহু মানুষ আর্থিক সাহায্য করবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সংস্থা নাকি ৮০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাঁকে। তাই মসজিদ নির্মাণে টাকার কোনও অভাব হবে না বলে এতটা প্রত্যয়ী হুমায়ুন। রেজিনগরের সভা থেকেই সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন ঘোষণা করলেন, ৩ কাঠা জমির উপর তৈরি হবে মূল বাবরি মসজিদ। ২৫ বিঘা জমির উপর মসজিদ চত্বরেই তৈরি হবে হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়।
হুমায়ুন বলেন, ‘বাবরি মসজিদ হবেই। সেটা কেউ আটকাতেই পারবে না। এটা মুসলিমদের সম্মানের লড়াই। তবে, শুধু মসজিদই নয়, হাসপাতাল, ßুñল, পার্ক, হোটেল সব হবে। মোট ৩০০ কোটি টাকার বাজেট।’
আয়োজকদের দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় ৬০,৭০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে মঞ্চ তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ১০ লক্ষ টাকা। ২ থেকে ৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নামানো হয়েছিল। রান্নার দায়িত্বে ৭টি ক্যাটারিং সংস্থা, তৈরি হয়েছে ৪০ হাজার ‘শাহি বিরিয়ানি’।
হুমায়ুনের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মত, সংখ্যালঘু কার্ড খেলছেন হুমায়ুন কবীর। আর তৃণমূলের দাবি, সংখ্যালঘু প্রার্থীর বিষয়ে মিথ্যে তথ্য দিচ্ছেন হুমায়ুন। সব মিলিয়ে মসজিদ শিলান্যাসের দিনেও রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। এবার ভোটের আগে এই জল কোনদিকে গড়ায় সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *