স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার ভূমিকা মনীষীদের ট্যাবলোয় ছাড়পত্র দেয়নি কেন্দ্র
রাজন্যা নিউজ ব্যুরো, কলকাতা
স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার মনীষীদের ভূমিকার কথা গুরুত্ব দিচ্ছে না কেন্দ্র। সেই কারণেই বোধ হয় সাধারণতন্ত্র দিবসে বাংলার মনীষীদের নিয়ে তৈরি ট্যাবলোয় এখনও অনুমোদন দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনস্থ এক্সপার্ট কমিটি। যদিও তাদের সঙ্গে ৫ দফা বৈঠক করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা। তারপরেও বাংলার ট্যাবলোর থিম বা নকশা অনুমোদীত হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, নিছকই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বাংলার এই উদ্যোগকে আটকে রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কলকাতা দক্ষিণের তৃণমূল সাংসদ মালা রায়। কেন্দ্রের এই ভূমিকাকে ‘রাজনৈতিক দীনতা’ বলে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মনীষীদের নিয়ে ট্যাবলোর অনুমোদনের জন্য এত বৈঠকের কী প্রয়োজন?’ তাঁর মতে, যাঁরা দেশের জন্য আত্মবলিদান দিয়েছেন, তাঁদের শ্রদ্ধা জানানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রের এই টালবাহানা আসলে সংকীর্ণ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতিরই পরিচয় বহন করে।
স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার ভূমিকাকে সর্বভারতীয় মঞ্চে তুলে ধরতে বীর বিপ্লবী এবং মনীষীদের ছবি দিয়ে সাধারণতন্ত্র দিবসের ট্যাবলো সাজায় রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত সেই ভাবনাকে এখনও অনুমোদন দিল না কেন্দ্র বলে অভিযোগ। দেশের স্বাধীনতা এনেছিলেন যে বিপ্লবীরা, তাঁদের বেশিরভাগই ছিলেন বাংলার। বাংলার বিপ্লবীদের সেই কথা দেশের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিল রাজ্য সরকার। ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবসে বাংলার ট্যাবলোর থিম করা হয় ‘স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার ভূমিকা’। তাতে অনুমোদন এখনও মেলেনি। এদিকে এই নিয়ে পাঁচটি বৈঠক হয়। তার পরও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনে থাকা এক্সপার্ট কমিটির সদস্যরা বাংলার ট্যাবলোর থিম অনুমোদন করেননি। আর এটাকেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে সুর চড়িয়েছে তৃণমূল।২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেডে কেন্দ্রীয় সরকারের থিম হল বন্দেমাতরম এবং ‘সমৃদ্ধি কা মন্ত্র-আত্মনির্ভর ভারত’। বন্দেমাতরম গানের উল্লেখ রয়েছে বাংলার ট্যাবলোর থিমেও। সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বন্দেমাতরম কীভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলা-সহ গোটা দেশের বিপ্লবীদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে তার উল্লেখ ছিল বাংলার ট্যাবলোতেও। কী ছিল এই ট্যাবলোয়? অন্যদিকে এই ট্যাবলোয় ছিল-কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজি নজরুল ইসলাম, সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বিপ্লবী বিনয়-বাদল-দীনেশ-সহ একঝাঁক মনীষী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীর ছবি দিয়ে। সেখানে দেশাত্মবোধক গান বাজানোর পরিকল্পনাও করা ছিল। এই থিম-ভাবনা জানার পরেও কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার ট্যাবলোকে অনুমোদন দেয়নি। বাংলাকে ছোট করে দেখে কেন্দ্রীয় সরকার বলে বারবার অভিযোগ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন না মেলায় সেটাই জোরাল হচ্ছে বলে দাবি তৃণমূলের। কী বলছে তৃণমূল কংগ্রেস? এই নিয়ে সুর চড়িয়েছেন দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মালা রায়। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তৃণমূল সাংসদের প্রশ্ন, ‘বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামী, মনীষীদের নিয়ে ট্যাবলোর ক্ষেত্রে অনুমোদন দেওয়ার জন্য এত বৈঠক করার কী প্রয়োজন? যাঁরা দেশ স্বাধীন করেছেন, তাঁদের শ্রদ্ধা জানিয়ে ট্যাবলো অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের এই টালবাহানা আসলে ওদের রাজনৈতিক দীনতা এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির পরিচয় বহন করছে।’

