সংখ্যালঘু ও মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে সিঁদুরে মেঘ থেকেই গেল বিজেপি শিবিরে

কল্যাণ অধিকারী, রাজন্যা নিউজ

ঠায় আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকেও নামল না প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টার। ধর্ম বাঁচাতে, ওপার থেকে এপারে এসেছে, তাদের অনেকেই আশায় ছিলেন এসআইআর নিয়ে পাশে থাকার বার্তা শুনবেন প্রধানমন্ত্রীর মুখে। কিন্তু দিনের শেষে ঝাপসাই থেকে গেল হিন্দুধর্মীয় একটি লোকসম্প্রদায় মতুয়া। আশঙ্কার মেঘ থেকেই গেল পদ্ম শিবিরে। বিজেপি ভালোভাবেই বোঝে এই সম্প্রদায়ের মানুষেরা ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পদ্ম শিবিরকে দু’হাত ভরে ভোট দিয়েছিলেন। ২৪-এও বনগাঁয় শেষ হাসি হেসেছিলেন বিজেপির শান্তনু ঠাকুর এবং রানাঘাটে জগন্নাথ সরকার। জাহাজ প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন শান্তনু ঠাকুর। কিন্তু খসড়া তালিকা প্রকাশ হতেই দেখা যায়, মতুয়াগড়ের বিরাট অংশের মতুয়ারাই এখন নাগরিকত্ব পেতে প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছেন।

নদিয়ার তাহেরপুরে মোদির সভায় মাঠ ভরানোর চেষ্টার কসুর করেনি বিজেপি। কিন্তু ঘন কুয়াশা ও দৃশ্যমান্যতা কম থাকার কারণে সভার প্রধান মুখ নরেন্দ্র মোদিকে দেখতে না পেয়ে হতাশ কর্মী-সমর্থকেরা। তবে মোবাইলে অডিয়ো বার্তা ভার্চুয়ালি ভাষণে ‘বাংলায় দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও কাটমানি’র কথা শুনেই ঘরমুখি হলেন মানুষজন। কিন্তু মতুয়ারা যে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আশ্বাস শুনতে চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী অডিও বার্তায় বললেন, পশ্চিমবঙ্গে এখনও ‘মহা জঙ্গলরাজ’। কিন্তু মতুয়ারা তো, শাখা সিঁদুরকে অক্ষত রাখতে, ধর্ম বাঁচাতে, ওপার থেকে এপারে এসেছে। তাঁদের কাছে ‘মহা জঙ্গলরাজ’ শোনার থেকে বেশি জরুরী, এ দেশের নাগরিকত্ব। বিজেপি সূত্রের খবর, মতুয়াদের হয়রানির আশঙ্কায় খোদ ঠাকুরনগরের বিজেপি-বিধায়ক। মতুয়াদের ক্ষোভে প্রলেপ দিতেই শনিবার রানাঘাটে প্রধানমন্ত্রী ছিল মেগা সভা। কিন্তু সেটা তো সম্পূর্ণ করাই গেল না। সংখ্যালঘু ও মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে সিঁদুরে মেঘ বিজেপি শিবিরে।

মতুয়া নিয়ে মাঠে নেমেছে তৃণমূল। কিন্তু তাঁরাও মতুয়াদের সম্পূর্ণ আশ্বস্ত করত এপারছে না। তৃণমূল ও বিজেপি উভয়েই বোঝে, ২৯৪ আসনের বঙ্গ বিধানসভায় বড় ফ্যাক্টর হতে পারে মতুয়ারা। এর প্রধান কারণ পশ্চিমবঙ্গের অন্তত ৩০টি বিধানসভা আসনে নির্ণায়ক শক্তি উদ্বাস্তু এবং মতুয়ারা। নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে ২০০৪ সাল থেকে মতুয়াদের ঠাকুরবাড়ি থেকে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। তবে এদিন প্রধানমন্ত্রী এক্স মাধ্যমে লিখেছেন, “প্রত্যেক মতুয়া ও নমঃশূদ্র পরিবারকে পরিষেবা দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছি। তৃণমূলের দয়ায় ওরা বেঁচে নেই। ভারতে সম্মানের সঙ্গে বসবাস করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তার জন্য নাগরিকত্ব আইনকে ধন্যবাদ। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি শপথ নিলে আরও বেশি পরিষেবা পাবেন মতুয়া ও নমঃশূদ্ররা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *