রেকর্ড ভেঙে ভিড় পঞ্চাশ লাখ, জাতীয় মেলা ঘোষণার দাবি জানিয়ে কেন্দ্রের সমালোচনায় বিদ্যুৎ মন্ত্রী

কল্যাণ অধিকারী, গঙ্গাসাগর

গঙ্গাসাগর মেলায় ভাঙল অতীতের সমস্ত রেকর্ড। ভিড়ের বহর ছাড়িয়েছে পঞ্চাশ লাখ। এরপরেই গঙ্গাসাগরে দাঁড়িয়ে এই মেলাকে জাতীয় মেলা ঘোষণার দাবিতে সরব হলেন রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। লোক সংখ্যার ভিত্তিতে গঙ্গাসাগরকে জাতীয় মেলার দাবি জানালেন। একি সঙ্গে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার সর্বক্ষেত্রেই আমাদের বঞ্চনা করছেন। আমাদের ন্যায্য পাওনা থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রেই।”

এর আগে জাতীয় মেলার দাবি জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেলা শুরু আগে গঙ্গাসাগরে দাঁড়িয়ে জাতীয় মেলা ঘোষণার দাবি করেছিলেন তিনি। এবার তাঁর মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য জাতীয় মেলার দাবি জানাতে গিয়ে কেন্দ্রের সরকারকে নিশানা করলেন। শনিবার বিকেল অবধি ছিল ৩৯ লাখ রবিবার বিকেল চারটে অবধি ভিড়ের হিসেব গিয়ে পৌঁছায় একান্ন লাখে। এত মানুষ এসেছেন সুস্থভাবে ফিরেও যাচ্ছেন। এজন্য মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘ নিরলস প্রচেষ্টার কারণে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এমনটাই মনে করেন গঙ্গাসাগর মেলার দায়িত্বে থাকা রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী।  

মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, পুলক রায়, স্নেহাশিস চট্টোপাধ্যায়কে পাশে বসিয়ে অরূপ বিশ্বাস এদিন বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার সর্বক্ষেত্রেই আমাদের বঞ্চনা করছেন। আমাদের ন্যায্য পাওনা থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রেই। আমাদের কাজ যেহেতু তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের যতদিন আছে ততদিন তাদের কাছে চাওয়া। আমরা যেটা চাইছি এটা তো আমাদের দাবি নয়, এটা তো মানুষের দাবি। যখন শুনবে না মানুষ সিদ্ধান্ত নেবে। হয়তো একদিন এমন হবে ওনারা থাকবেনই না! যারা আসবে তাঁরা চিন্তাভাবনা করবে।” মেলা আয়োজনের খুঁটিনাটির উপর নজর রেখেছেন মন্ত্রী পুলক রায়। তাঁর কথাতেও এক সুর। তিনি সাংবাদিকদের জানান, “পূণ্যার্থীদের পানীয়জল থেকে সুগম পরিবহণ সমস্ত দিকে কড়া নজর ছিল সকলের। সমস্ত দিক দিয়ে মেলা নিরাপদে সংগঠিত হয়েছে। এত লক্ষ মানুষের ভিড় যা সর্বকালিন এক রেকর্ড।”    

কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী সমস্ত জায়গা থেকে মানুষ ভিড় জমিয়েছেন। এবছর উল্লেখযোগ্যভাবে নেপালের মানুষ বেশি এসেছেন। যা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মেলার ব্যাপ্তি ঘটিয়েছে। একিসঙ্গে গঙ্গাসাগরে এত লক্ষ মানুষের জন্য পরিশ্রুত পানীয়জল সর্বদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। যা জনস্বাস্থ্য ও কারিগরী বিভাগের একটা সাফল্য। সমস্ত দিক দিয়ে জাতীয় মেলা ঘোষণা করতে কোনপ্রকার বাধা নেই এমনটাই মনে করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একাধিক মন্ত্রী। রাজ্যের গর্বের মুকুটে নয়া পালকের সন্ধানে মুখ্যমন্ত্রীর মন্ত্রীসভার সদস্যরা এবার তৎপর হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *