মেলায় ভিন রাজ্যের পুণ্যার্থীদের মুখে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা

কল্যাণ অধিকারী গঙ্গাসাগর

রাজস্থান, বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও ছত্রিশগড়কে একসূত্রে মেলাল গঙ্গাসাগর মেলা তথা পশ্চিমবঙ্গ। মকর সংক্রান্তির মহামেলার আয়োজন তৃপ্ত করেছে ভিন রাজ্যের পুণ্যার্থীদের। মাহেন্দ্রক্ষণের আগেই স্নান সেরে কপিল মুনির মন্দিরে পুজো দিয়েছেন লাখো পুণ্যার্থী। সাগরতীর্থ ছাড়ার আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেল পুণ্যার্থীদের মুখে-মুখে।

গঙ্গাসাগরে মহামেলায় বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রির কথা ভেবে আয়োজনে প্রতি বছরই নতুন নতুন ব্যবস্থাপনা রাখা হয়। এবছর পুণ্যস্নানের সময় শুরু রবিবার মধ্যরাত। চলবে সোমবার মধ্যরাত অবধি। ১ নম্বর থেকে ৫ অবধি সমস্ত ঘাটের গেটে নিদিষ্ট রঙের আলো রাখা হয়েছে। একি সঙ্গে গেটে বিভিন্ন পশুর ছবি দেওয়ায় সুবিধা হয়েছে দেহাতী মানুষদের। রয়েছে হেভি পাওয়ার লাইটের ব্যবস্থা যা কুয়াশা ভেদ করে দেখা যাবে। একি সঙ্গে বাবুঘাট থেকে গঙ্গাসাগর মেলা অবধি ১১৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরা প্রতি মুহূর্তের ছবি তুলে ধরছে। মেগা কন্ট্রোল রুমে মাঝেমধ্যেই পৌঁছে যাচ্ছেন রাজ্যের মন্ত্রীরা। দিন-রাত এক করে সমস্তটা পর্যবেক্ষণ করে চলেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক সুমিত গুপ্তা।

রবিবার থেকে রাজ্যের ৮ মন্ত্রী সহ একাধিক বিধায়ক ও বিভিন্ন দপ্তরের সেক্রেটারী গঙ্গাসাগর মেলায় উপস্থিত রয়েছেন। পুণ্যার্থীদের স্নান ও বাথরুম ব্যবহারে কোনপ্রকার যাতে অসুবিধা না হয় হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক, সিভিক ও পুলিশ কর্মীরা সর্বদা ব্যস্ত। মেলায় কান পাতলেই বাংলা-হিন্দি সহ মোট সাতটি ভাষায় ঘোষণা চলছে। কোন পুণ্যার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লেই মুহূর্তে খবর পৌঁছে যাচ্ছে মেগা কন্ট্রোলরুমে। তারপরেই অ্যাম্বুলেন্স হাজির। অসুস্থ মানুষটিকে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স। যা ভিন রাজ্যের মানুষদের মন ছুঁয়ে গিয়েছে।

কমলা দেবী বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা। এদিন বিকেলে হঠাত করেই সাগর পাড়ে বসে পড়েন। বাঁশি বাজিয়ে ছুটে আসেন সাগরের বাসিন্দা তথা স্বেচ্ছাসেবক হেমন্ত কোলে। খবর যায় কন্ট্রোলরুমে। কাছাকাছি থাকা অ্যাম্বুলেন্সকে ঘোষণা করতেই পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সাগর অস্থায়ী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেলে বেডে শুয়ে কমলা দেবী জানান, “স্নান সেরে উঠতেই বুকটায় হঠাতি যন্ত্রণা শুরু হয়। চোখ-মুখ ঝাপসা হয়ে আসে। তারপর আর জ্ঞান ছিল না।” চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠছেন। পড়শি অনিতা দেবী বেডে বসে গরম চা-বিস্কুট খাওয়াচ্ছেন। মকর সংক্রান্তির মহামেলায় সরকারের সঠিক আয়োজনে কমলা দেবীর মতো শতাধিক অসুস্থ পুণ্যার্থী সুস্থ উঠছেন জানালেন রাজ্য সরকারের কৃষি মন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়।

রবিবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে মেলায় ভিড়ের পরিসংখ্যান দেন রাজ্য সরকারের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনি জানান মেলা শুরুর দিন থেকে রবিবার দুপুর অবধি ৬৫ লক্ষ মানুষ সাগরে এসেছেন। একি সঙ্গে মেলার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী পুলক রায়, স্নেহাশীষ চক্রবর্তী, সুজিত বোস, শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিম হাজরা, ইন্দ্রনিল সেন ও পার্থ ভৌমিক। মেলায় উপস্থিত রয়েছেন বিধায়ক সুকান্ত পাল, সুরেন্দ্র গুপ্তা প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি জন স্বাস্থ্য কারিগরী বিভাগ। সান্তনু বসু সেক্রেটারী বিদ্যুৎ ও সংস্কৃতি দপ্তর। সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার কোটেশ্বর রাও।

নিজস্ব চিত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *