হুমায়ুনের হুমকির পরেই মুখ খুললেন ইউসুফ , দুই ইমাম সৌদির নয় এ রাজ্যের বাসিন্দা

কল্যাণ অধিকারী, রাজন্যা নিউজ

সৌদি থেকে আগত দুই অতিথিকে সামনে রেখে বিশাল আয়োজন করে মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদ’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন হুমায়ুন। তারপর থেকেই ওই দুই অতিথিকে নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এই নিয়ে হুমায়ুন মুখ খুলতেই চাপে পড়ে সামনে আসলেন মহম্মদ ইউসুফ। তিনি জানালেন, ওঁনারা সৌদির নয়, ওঁনারা মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দুই কারী। সৌদি থেকে আনতে হলে অনেক রকম ঝক্কি। দরকার ভিসার। তাই মুর্শিদাবাদের কারী সুফিয়ান এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কারী আবদুল্লাহকেই সৌদি সাজিয়েছিল। বিষয়টি ওই দিন বললে বিশৃঙ্খলা হতে পারে তাই বলা হয়নি। তবে, বিজেপি ও তৃণমূল ইচ্ছে করে এসব প্রচার করছে বলে জানান ইউসুফ।
এদিন ভরতপুর-১ ব্লক জমিয়ত উলামার সম্পাদক মহম্মদ ইউসুফ বললেন, ওঁনারা বড় মাপের মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। এনাদের দ্বারাই শিলান্যাস করা হয়েছে। প্রথম থেকে যেহেতু বলা হয়েছিল সৌদির মেহমান আনা হবে। মানুষ ওখানে বিভ্রান্ত হবে তাই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় বলা হয়নি। এটাকে নিয়েই বিজেপি ও তৃণমূলের একটি শ্রেণি প্রচার করছে। মানুষের সঙ্গে প্রতারণা, ধোঁকাদারি বলে বোঝাতে চাইছে। বিদেশ থেকে মেহমান আনার চেষ্টা করেছিলেন হুমায়ুন নিজেও কিন্তু আনতে ব্যার্থ হয়ছেন। তবে, বাবরি মসজিদের শিলান্যাস হয়েছে। মসজিদ ওখানে হবে। কিন্তু মানুষের কাছে একটা ভুল বার্তা দেওয়ার জন্যই ভুল প্রচার করা হচ্ছে। এমনকি কলকাতার কিছু মানুষ বলছে ওখানে বাবরি মসজিদ হবে না! মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এখানেই শেষ নয় কিছু আলেম বলছেন, মোটা অঙ্কের টাকার ডিল হয়েছে হুমায়ুনের সঙ্গে। কিন্তু এসব ভুল বার্তা। ওঁনাদের প্রশ্ন করলেই সব স্পষ্ট হয়ে যাবে, টাকার ডিল ছিল কিনা।
৬ ডিসেম্বর হুমায়ুন কবীরের প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাস অনুষ্ঠানের মঞ্চে এই দুই ব্যক্তির পরিচয় কি তা নিয়েই জোর শোরগোল। স্বয়ং হুমায়ুন বলেছিলেন, বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন, ‘সৌদি আরবের দুই অতিথি’ উপস্থিত থাকবেন। সেইমতন একেবারে আরবি ঘরানার পোশাক পরে হাজির ছিলেন দুই ব্যক্তি। কিন্তু তাঁদের পরিচয় কি? হুমায়ুন সাংবাদিক দের বলেন, এ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি দায় ঠেললেন ইউসূফ মৌলানা নামে এক ব্যক্তির দিকে। ‘ইউসূফ সে আমার ভরতপুরের ছেলে, সে এই ব্লান্ডারটা করেছে। আমি সোজা কথা তাকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম, সে বলেছিল গুজরাতে আছে, গুজরাত থেকে প্লেনের ভাড়া এই এই খরচা দিতে হবে। তাহলে আমি এনে দেব। আমি তাকে টাকা দিয়েছি। কাউকে সাজিয়ে নিয়ে এসেছে। তার দায় আমার না।’ এরপরেই জানা যায় সৌদি আরব তো দূর, তাঁরা এ রাজ্যেরই বাসিন্দা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *