বাংলায় উনিশ থেকে বিশ হলেই ফুঁসে ওঠেন টিভিওয়ালারা, গুজরাত-হাতরসে হলে বলে না! উদয়নারায়ণপুরে ফিরহাদ

কল্যাণ অধিকারী, রাজন্যা নিউজ

বাংলার মাটি বারবার রায়বাঘিনীদের জন্ম দিয়েছে। উদয়নারায়ণপুরে ভবশঙ্করী, মেদিনীপুরে মাতঙ্গিনী হাজরা হতে পারেন। আর এখন শক্তিশালী নারী যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন তিনি আমাদের নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় উনিশ থেকে বিশ হলেই ফুঁসে ওঠেন টিভিওয়ালারা! গুজরাত-হাতরসে হলে টিভিওয়ালারা বলে না, কারণ মোদী বাবু যদি রেগে যায়। তাহলে তো থাপ্পড় মারবে! তাই কেউ কিছু বলে না। রায়বাঘিনী রাণী ভবশঙ্করী স্মৃতি মেলা শুভ উদ্বোধনে এসে বললেন, কলকাতার মহানাগরিক ও রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

বাংলার মেলা ও খেলা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করেন। এ প্রসঙ্গ উত্থাপন করে ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘বাংলার মানুষ অনেকটা সময় মেলা খেলায় জড়িয়ে পড়ি। বাঙালিদের সংস্কৃতি কৃষ্টি মনের মধ্যে আছে বলেই মেলা-খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। গুজরাটি ভাইয়েরা যেভাবে কিতনা ভাউ উঠ গেয়া, কিতনা গির গেয়া, আমরা এসব ঠিক বুঝিনা। আমরা আনন্দ বুঝি, হইহই করা বুঝি। চিত্রপদর্শন বুঝি, বই পড়ে আনন্দ পাই, শিশু মেলা দেখি। মুখ্যমন্ত্রীকে অনেকে বলেন বাংলাকে মেলা-খেলা লাগিয়ে দিয়েছে! আরে মেলা-খেলা আছে বলেই তো মানুষ বেঁচে আছে। মানুষ যদি মেশিন হয়ে যায়, তাহলে সেটা জীবিত হয় না। খেলা হবে, মেলা হবে, আনন্দ হবে। তাই আমাদের এই পুরো বাংলাটাই একটা আনন্দ আশ্রম। আর আমাদের মাথার উপর রয়েছে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

যুবভারতি নিয়ে বলেন, কদিন আগে খেলা নিয়ে একটা অরাজতকা হয়েছে। অনেক মানুষ টিকিট কেটে মেসিকে দেখতে পায়নি। এটা না হলে ভালো হত। ব্যবস্থাপনার কিছু ত্রুটি ছিল। কেন, সারা ভারতে অরাজকতা হয় না প্রশ্ন তুললেন ফিরহাদ। তিনি আরও বলেন, গুজরাটের মরবিতে অরাজতকার জন্য অনেক লোক ব্রিজে উঠে যায়। সেই ব্রিজটা ভেঙে ১২৩ জন মারা যায়! তখন আমাদের যারা টিভিওয়ালা তাঁরা এসে বলে না, এটা ভয়ঙ্কর হয়েছে। ১২৩ জন মারা গেছে, তখন কোন এনকুয়ারি হয় না। তখন লোকে চুপ করে থাকে! বাবা ওটা তো গুজরাট। মোদী বাবু যদি রেগে যায়। তাহলে তো থাপ্পড় মারবে! তাই কেউ কিছু বলে না। হাতরসে মন্দিরে ঢুকতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল বহু মানুষের! কেউ তো কোন প্রতিবাদ করেনি। যত মস্তানি বাংলায়। একটা উনিশ থেকে বিশ হলে, সব বিজ্ঞরা বসে পড়বে টিভিতে। তারপর মমতার মন্ত্রীসভায় কেন হল? বলতে শুরু করে দেব। তাহলে ওইটা কেন হয়েছিল? সারা ভারতবর্ষ জুড়ে অরাজকতা হয়েছিল। এইতো সেদিন কেরলে পদপিষ্ট হয়ে মারা গেল কত মানুষ! কোন আলোচনা নেই।

বাংলা সবথেকে বড় সংস্কৃতির পিঠ, গণতন্ত্রের পিঠ। এখানে মানুষের বলার অধিকার সবার আছে। প্রতিবাদের অধিকার সবার আছে। আমরা এখানে সবাই রাজা, এই রাজার রাজত্বে। তাই আমরা সবাই মিলে হাসছি, নাচছি, মেলা করছি। আর ওঁরা টিভিতে গিয়ে যা ইচ্ছে তাই বলে যাচ্ছে। এত বলেও লাভ হবে না তার কারণ, আমরা সকলে জানি, টিভিতে বলো সে বলা ভুলে যাবে, কাগজে লেখো, সে লেখা মুছে যাবে, হৃদয়ে লেখা রয়েছে মমতা ব্যানার্জি, সেটা মোছার অধিকার কারওর নেই। এই মেলার মধ্য দিয়ে আমাদের যে সংস্কৃতি চর্চা, আমাদের যেটা আনন্দ সেটা নিতেই থাকব। আর বলব জয় বাংলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *