রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ভারতীয় পণ্যে ৫০০ শতাংশ ট্রাম্প শুল্ক!

রাজন্যা নিউজ ব্যুরো ৮ জানুয়ারি

রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ না করলে ভারতের ওপর আরও চড়া শুল্ক আরোপ করার হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ভারতের তরফে কোনও উদ্যোগ দেখতে না পেয়ে সেই কাজটাই করে বসলেন ট্রাম্প। আমদানিকৃত ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০০ শতাংশ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন ট্রাম্প। এই বিল মার্কিন আইনসভায় এই সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করার তোড়জোড় চলছে। শোনা যাচ্ছে সেই বিলে সবুজ সংকেত দিয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর ফলে ভারতীয় পণ্যে শুল্কের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০০ শতাংশও করতে পারে আমেরিকা। আর তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারত। একই ‘শাস্তি’র মুখে পড়তে পারে চিন ও ব্রাজিলও।
রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল আমদানি বন্ধ করতে ভারতকে বাধ্য করার লক্ষ্যে আরও কড়া অবস্থানে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্ক ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিল শীঘ্রই মার্কিন আইনসভায় পেশ হতে চলেছে বলে দাবি করেছেন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিলে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
লিন্ডসে সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘যে সব দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় তেল কিনে পুতিনকে যুদ্ধ চালাতে সাহায্য করছে, তাদের শাস্তি দিতেই এই বিল।’ তাঁর উল্লেখ করা দেশগুলির তালিকায় রয়েছে ভারত, চিন ও ব্রাজিল। আগামী সপ্তাহেই এই বিল নিয়ে কংগ্রেসে ভোটাভুটি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীদের প্রশ্ন , কেন গোটা বিষয়টি নিয়ে নীরব অবস্থানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি? কোথায় গেল সেই ‘৫৬ ইঞ্চি’র পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়া? ঘটনা হল ট্রাম্প ও মোদি সব সময় একে অপরকে ‘বন্ধু’ বলে দাবি করেন। সেই জায়গা থেকে ভারতীয় পণ্যের উপর যেভাবে লাগাতার শুল্ক চাপানো হচ্ছে, বা আরও বেশি মাত্রায় চাপানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে, সেটাকে কি বন্ধুত্বসুলভ আচরণ বলে? গেরুয়া শিবির যখন মোদিকে ‘বিশ্বগুরু’ হিসাবে তুলে ধরতে চায়, ঠিক তখনই ট্রাম্পের একতরফা হুঁশিয়ারি বারবার সামনে আসছে। এগুলি কি মোদির জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি নয়?
প্রসঙ্গত, রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ইতিমধ্যেই ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। ফলে মোট শুল্কের হার দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। পাশাপাশি, রাশিয়ার তেল সংস্থা রসনে ও লুকঅয়েলের উপর নিষেধাজ্ঞাও জারি রেখেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, এই তেল বিক্রির অর্থ ইউক্রেন যুদ্ধ চালাতে ব্যবহার করছে মস্কো।
তবে নয়াদিল্লি বারবারই জানিয়ে এসেছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম এশিয়ার উপর নির্ভরতা কমিয়ে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়ায় ভারত। বর্তমানে চিনের পর ভারতই রুশ তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত চাপ তৈরির অস্ত্র। সরাসরি রাশিয়ার উপর বড় নিষেধাজ্ঞা না চাপিয়ে, তাদের ক্রেতা দেশগুলিকে নিশানা করে পুতিনকে ‘কোণঠাসা’ করাই লক্ষ্য হোয়াইট হাউসের। তবে এর ফলে আমেরিকা-ভারত সম্পর্কের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
একদিকে জ্বালানি মূল্য নিয়ন্ত্রণে রুশ তেল ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান শুল্ক যুদ্ধ রফতানি ও বাণিজ্যে বড় ধাক্কা দিতে পারে। ফলে নয়াদিল্লির সামনে এখন কঠিন সমীকরণ, অর্থনীতি, কূটনীতি ও ভূ-রাজনীতির ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *