একাদশ-দ্বাদশে শিক্ষক নিয়োগের নথি যাচাই শুরু

রাজন্যা নিউজ, কলকাতা: মঙ্গলবার থেকে শুরু হল একাদশ-দ্বাদশ শিক্ষক নিয়োগের নথি যাচাই পর্ব। প্রায় ৭১০ জন তালিকাভুক্ত চাকরিপ্রার্থীর নথি এদিন যাচাই করা হয়। প্রথমদিন নথি যাচাইয়ের জন্য ডাক পড়েছিল বাংলা বিভাগের। ১৫টা টেবিলের ব্যবস্থা রয়েছে এই নথি যাচাইয়ের জন্য। কিন্তু সেখানে এসেও অসন্তোষ ঝরে পড়ল দু’পক্ষের গলায়।
এক পক্ষ হল, যাঁরা ২০১৬ সালে বৈধভাবে চাকরি পেয়েও চাকরিহারা হয়েছেন দুর্নীতির কারণে। আর অন্য পক্ষ হল, ২০২৬ সালের নতুন পরীক্ষার্থীরা।নতুনরা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যোগ্য চাকরিহারাদের বাড়তি ১০ নম্বর দেওয়া নিয়ে এখনও সরব। তাঁদের মতে, এটা ঠিক হয়নি। অপরদিকে, যোগ্য চাকরিহারাদের পালটা দাবি, ১০ নম্বর নয়, এজন্য আরও বেশি নম্বর তাঁদের প্রাপ্য ছিল। আরও বেশকিছু বিষয় নিয়ে দু’পক্ষেরই অসন্তোষ রয়েছে।
যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক আন্দোলনের অন্যতম মুখ মেহেবুব মণ্ডল এদিন বলেন, ‘এই জায়গাটায় আসতে চাইনি। এটা আমাদের কাছে খুব দুঃখজনক। আমাদের এই একই পরীক্ষার জন্য আবারও সেই একই জায়গায় আসতে হল। আশা রাখব, আর যেন এরকম কোনও জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি না-হয়। শিক্ষক পদে মোট আসন সংখ্যা ৩২ হাজার। যাঁরা অপরাধ না-করে চাকরি হারিয়েছেন, তাঁদের সংখ্যা ১৩,০০০। ফলে এই সংখ্যাটা ছাড়া বাকি সকল পদে নতুন পরীক্ষার্থীরা সুযোগ পাবেন। ১৭ হাজার শূন্যপদ ছিল। সেই জায়গাটাই কেউ পেত না যদি পরীক্ষা না-হত।’
আমারাবাগ থেকে এসেছেন সুখেন্দু ঘোষ। তিনি এই বছরের নতুন পরীক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘যে প্যানেল বাতিল করা হয়েছে সেই প্যানেলকে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১০ নম্বর দেওয়ার অর্থ কী? তাঁদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১০ নম্বর দেওয়া হয়েছে, আবার ইন্টারভিউতে কীভাবে পড়াতে হয় তার অনুকরণেও ১০ নম্বর পেয়ে যাবেন। এটা মনে হয় না যুক্তিযুক্ত। আমাদের দোষ কোথায়? আমরা তো আগের বার পরীক্ষা দিতে পারিনি।’
২০১৬ সালের চাকরিহারা শ্রীরামপুরের এক শিক্ষিকা আবীরা দাস বলেন, ‘কিচ্ছু বলার নেই আমাদের। যা হচ্ছে আমাদের সহ্য করে নিতে হচ্ছে। ১০ নম্বর দেওয়ার কথা গেজেটেই বলা ছিল। নতুনদের ক্ষেত্রে এটা সত্যিই একটা সমস্যা। কিন্তু আমাদেরও কিছু করার নেই। আমরা নির্দোষ হয়েও শাস্তি পেয়েছি। ১০ নম্বর কেন, আরেকটু বেশি নম্বরও আমরা পেতে পারি। হয়তো যোগ্যরা ভেবেছিল তারা যেহেতু পড়াশোনার মধ্যে আছে, তারা এই বিষয়টা নিয়ে সমস্যায় পড়বে না। কিন্তু ২০১৬ সালে তখনও আসন সংখ্যা খুব কম ছিল। আমরা যারা যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছি, আমাদের পারফরম্যান্সও কিন্তু ভালো। আসলে সরকার ২০১৬ এবং নতুন পরীক্ষার্থীদের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *