রায়পুরেও বিরাটের শতরান, সেঞ্চুরি ঋতুরাজের সিরিজে সমতা ফেরাল প্রোটিয়ারা

রায়পুর, ৩ ডিসেম্বর: রায়পুরে এক ম্যাচ বাকি থাকতে সিরিজ জয়ের স্বপ্নে জল ঢেলে দিল। ৩৫৮ রান তুলেও জিততে পারল না গম্ভীর ব্রিগেড। বিফলে গেল জোড়া সেঞ্চুরি। মার্করাম, ব্রেভিস, ব্রিৎজকেরা দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দ্বিতীয় ম্যাচ জিতিয়ে দিলেন প্রোটিয়াদের। ফলে ৩ ম্যাচের সিরিজ এখন সমতায়। রায়পুরে মার্করামের সেঞ্চুরি, ব্রিৎজকি (৬৮) ও ব্রেভিস (৫৪)-এর সৌজন্যে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ জিতে নেয়। ব্যাটারদের জন্য বড় রান করতে পারছে ভারত। বিরাট রানের পুঁজি হাতে নিয়ে বল করতে নেমেও হর্ষিত রানা-অর্শদীপরা ভারতকে জেতাতে পারছেন না। ২০২৭ বিশ্বকাপে এই বোলিং শক্তি নিয়ে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে ভারত?
শুরুটা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারলেন না ভারতের ব্যাটাররা। বিরাট কোহলির শতরান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম শতরান ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের। অধিনায়ক লোকেশ রাহুলের ঝোড়ো অপরাজিত অর্ধ-শতরান। তা সত্ত্বেও দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে সাড়ে তিনশোর গণ্ডি পেরতে বেশ ঘাম ঝরাতে হল টিম ইন্ডিয়া। ইনিংসের মাঝে একটা সময়ে মনে হচ্ছিল, ভারত হাসতে হাসতে ৪০০ রান তুলে ফেলবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৫৮ রান করে। শেষ ১০ ওভারে ওঠে মাত্র ৭৪ রান।
বুধবারও টস হারেন অধিনায়ক রাহুল। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ১০ ওভারের মধ্যেই আউট হয়ে যান দুই ওপেনার যশস্বী জসওয়াল এবং রোহিত শর্মা। বার্গারের ওভারে পরপর তিনটে চার মেরে পরের বলেই ক্যাচ তুলে ১৪ রানে ফিরে যান হিটম্যান। জানসেনের বলে ২২ রানে ক্যাচ তুলে দেন আরেক ওপেনার যশস্বী। তারপর ভারতীয় ইনিংসের হাল ধরেন বিরাট এবং ঋতুরাজ। তৃতীয় উইকেটে ১৯৫ রানের জুটি গড়েন দু’জনে।
২৯১ দিন পর দেশের মাটিতে ফিরেই রাঁচিতে ৫২তম শতরান করেছিলেন বিরাট। রাঁচিতে যেখানে শেষ করেছিলেন, ঠিক সেখান থেকে রায়পুরেও শুরু করলেন বিরাট। ছয় মেরে শুরু করেছিলেন বিরাট। জানসেনের বলে সিঙ্গেল রান নিয়ে ৯০ বলে ৫৩তম শতরান পূর্ণ করলেন তিনি। তবে তাঁর ইনিংস খুব একটা লম্বা হয়নি। ৮৩ বলে ১০৫ রান করে জানসেনের বলে আউট হন তিনি। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল ৭টা চার এবং দুটো ছয় দিয়ে। পরপর দুটো শতরান। রাঁচির পিচ এবং রায়পুরের পিচ পুরো আলাদা। ৩৭ বছরের বিরাট দুই পিচে আলাদা আলাদা পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাট করেন।
বিরাটের আগে অবশ্য ৭৭ বলে শতরান করেন ঋতুরাজ। আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের প্রথম শতরান তাঁর। তবে ৮৩ বলে ১০৫ রানে শেষ হয়ে গেল তাঁর ইনিংস। মারেন ১২টি চার এবং দুটো ছয়। রাঁচিতে করেছিলেন মাত্র ৮ রান। ব্যর্থতা ভুলে রায়পুরে দুর্দান্ত শতরান ঋতুরাজ আউট হতেই কোহলির সঙ্গে ১৫৬ বলে ১৯৫ রানের জুটি ভেঙে যায়। তাঁর শতরানে নপথ্যে কোহলির অবদানও অপরিসীম। একাধিকবার তাঁকে নানান পরামর্শ দিতে দেখা গিয়েছে বিরাটকে। তা যে অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন, তা বোঝা গিয়েছে এদিন। প্রায় দু’বছর পর জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া ঋতুরাজ মাথা ঠান্ডা রেখে তাঁর ইনিংসকে শতরানে রূপান্তরিত করে নির্বাচকদের যেন বুঝিয়ে দিলেন, এবার একদিনের ক্রিকেটে তাঁকে সহজে বাদ দেওয়া যাবে না।
বিরাট যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন রানের গতি প্রতি ওভারে প্রায় সাড়ে সাতের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এদিন ব্যাটিং অর্ডারে নিজেকে তুলে আনেন অধিনায়ক রাহুল। তিনি ব্যাট করতে নামেন পাঁচ নম্বরে। রাঁচিতে ৬০ রানের ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন। রায়পুরে ৩৩ বলে অর্ধ-শতরান করেন। শেষ পর্যন্ত ৬৬ রানে অপরাজিত ছিলেন রাহুল। তাঁর ইনিংসে ছিল ছ’টা চার এবং দুটো ছয়।
কিন্তু বিরাট আউট হওয়ার পর থেকেই ভারতের রানের গতি কমতে থাকে। নিজের ভুলে রান আউট হন ওয়াশিংটন সুন্দর (১)। তারপর ব্যাট করতে নামেন রবীন্দ্র জাডেজা। কিন্তু ২৭ বল খেলে মাত্র ২৪ রান করেন তিনি। ভারতের চারশো রান তোলার স্বপ্ন ওখানেই শেষ। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ভারত তোলে ৩৫৮ রান। প্রোটিয়াস বোলারদের মধ্যে একমাত্র মার্কো জানসেন দুই উইকেট পেয়েছেন। একটি করে উইকেট গিয়েছে নান্দ্রে বার্গার এবং লুনগি এনগিডির ঝুলিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *