চোলাই গ্রামের বদনাম ঘোচাতে পথে মহিলারা
কল্যাণ অধিকারী, রাজন্যা নিউজ
হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় তুলসীবেড়িয়া এলাকায় বাড়ছে বিধবার সংখ্যা। মেয়ের বিয়ে দিতে নারাজ হচ্ছেন কন্যাপক্ষ। এমনকি ‘নতুন বউ’ সংসার ছেড়ে পালাচ্ছেন। অনেকে আবার সন্তান বাঁচানোর আশায় জড়িয়ে পড়ছেন পরকীয়া সম্পর্কে। কারণ একটাই চোলাই মদের রমরমা। বাধ্য হয়ে মাইক নিয়ে পথে নামলেন মহিলারা। ঘটনাটি রাজাপুর থানার তুলসীবেড়িয়া গ্রামের।
জানা গিয়েছে, এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ তফসিলি জাতি উপজাতি। দিনে মাছ ধরাই এদের মূল পেশা। তবে অনেকেই রাতে চোলাই মদ বিক্রি করে দু পয়সা অতিরিক্ত আয় করে। ফলে চোলাই কারবারীদের অবাধ বিচরণ এখানে। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রশাসন কিংবা পুলিশ যেন ধরেই নিয়েছে ‘যা চলছে চলুক। তাতে আমার কি?’ তুলসীবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাণকেন্দ্র তুলসীবেড়িয়া সর্দার পাড়া “চুল্লু পাড়া” হিসাবে দুর্নাম অর্জন করেছে। এ হেন অন্ধকার থেকে আলোয় ফিরতে, স্থানীয় প্রশাসন আর পুলিশের ভরসায় না থেকে মেয়েরাই পথে। চুল্লু মদে আসক্ত স্বামীকে ফেরাতে স্ত্রী, কন্যারাই মাঠে নেমে পড়েছে। রাতের অন্ধকারে দলবদ্ধভাবে লাঠি হাতে চোলাই ঠেকে হামলা কিংবা চোলাই কারবারীদের ‘গেরিলা’ কায়দায় তাড়া করা, সবই করছে একদল চুল্লুপীড়িত পরিবারের মহিলারা।
চোলাই রুখতে মহিলাদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও বাস্তবিক বিষয় হতাশ পঞ্চায়েত প্রধান। তবে মহিলাদের উদ্যোগকে প্রশংসা করেছেন। একিসঙ্গে গ্রামের পুরুষদের সঠিক পথে ফেরানোর প্রাথমিক প্রচেষ্টা অনেকটাই প্রভাব ফেলেছে। বহু সংগঠন এগিয়ে আসছেন। প্রয়োজনে এলাকায় সচেতনতার পাঠ দিতে চাইছেন।

