যশস্বীর শতরানে সিরিজ ভারতের কুলদীপের ঘূর্ণিতে নাজেহাল প্রোটিয়াসরা

বিশাখাপত্তনম, ৬ ডিসেম্বর:

বর্তমান ক্রিকেটে টসের উপর ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করে থাকে। তাই ২০ ম্যাচ পর শনিবার বিশাখাপত্তনমে ভারত অধিনায়ক লোকেশ রাহুল গুরুত্বপূর্ণ টস জিতে সিরিজ জয়টা তখনই অনেকটা নিশ্চিত করে দিয়েছিলেন। প্রথম বল হাতে কাজটা করেন পেস বোলার প্রসিদ্ধা কৃষ্ণা এবং চায়না ম্যান কুলদীপ যাদব এবং ব্যাট হাতে অসম্পূর্ণ কাজটা শেষ করে ওপেনার রোহিত এবং যশস্বী জসওয়াল। ফর্মে না থাকা যশস্বী এদিন শুরু থেকে ব্যাট হাতে ছ¨েµ ছিলেন। প্রথম একদিনে শতরান পূরণ করেন। শেষ পর্যন্ত ১১৬ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন। ১২১ বলের ইনিংস সাজানো ছিল ১২ চার ও ২টি ছয় দিয়ে। ভারতের ৩ টপঅর্ডার ব্যাটার দক্ষিণ আফ্রিকান বোলারদের শুরু থেকেই চাপ তৈরি করেন। প্রথমে যশস্বী-রোহিতের সঙ্গে এবং পরে বিরাটের সঙ্গে জুটি বেধে ভারতের জয় অবদান রাখেন। এর সঙ্গে ভারত ৩ ম্যাচের একদিনের সিরিজ ২-এর ব্যবধানে জিতে যায়।
ভারত রাঁচিতে প্রথম একদিনের ম্যাচ জিতেছিল ১৭ রানে। কিন্তু রায়পুরে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে ৩৫৮ রান করেও ৪ উইকেটে হেরে যায় ভারত। বিশাখাপত্তনমে যে জিতবে সিরিজ তার। এদিন রাহুল টসটা জিতে ড্রেসিংরুমে হাসি ফিরিয়ে আনেন।
জেতার জন্য ২৭১ রান তাড়া করতে নেমে অন্য ম্যাচের তুলনায় এদিন শুরুটা রক্ষণাত্মক করেন ভারতের দুই ওপেনার রোহিত এবং যশস্বী।প্রথম অর্ধ-শতরান করেন রোহিত পরে একদিনের ক্রিকেটে প্রথম অর্ধ-শতরান পূরণ করেন যশস্বী। দক্ষিণ আফ্রিকার ভারত সফরে ওপেনার যশস্বী ব্যাট হাতে পুরো ব্যর্থ ছিলেন।
ভারতের ১৫৫ রানের ওপেনিং জুটিকে ভাঙেন কেশব মহারাজ। ৭৫ রানের কেশবের বল রোহিতের ব্যাটের বাইরে লেগে ক্যাচ উঠে। ৭৩ বলের ইনিংসে ছিল তিনটে ছয় এবং সাতটা চার।
৩ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে বিরাট আক্রমণত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। রোহিত আউট হওয়ার পর বিরাট-যশস্বী জুটি ১০ ওভার বাকি থাকতেই ভারতকে জয় এনে দেয়। পর পর এনগিডির বলে বিরাট ২টো ৪ মেরে ভারতকে ৯ উইকেটে জয় এনে দেন। ৪৫ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার এবং ৩টি ছয়।
কোচ গৌতম গম্ভীর তাঁর উপর আস্থা রেখেছিলেন। আগের ম্যাচে জঘন্য পারফরম্যান্সের পরও বিশাথাপত্তনমে তাঁকে প্রথম একাদশে রেখেছিলেন। সেই প্রসিদ্ধা কৃষ্ণা অবশেষে কোচের আস্থার দাম দিলেন। তাঁর পেস এবং কুলদীপের ঘূর্ণির দুর্বিপাকে পড়ে তৃতীয় তথা শেষ ম্যাচে বড় রান করতে ব্যর্থ হল দক্ষিণ আফ্রিকা। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৭.৫ ওভারে ২৭০ রানে অল আউট হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। রানটা এই পিচ এবং পরিস্থিতিতে বিরাট কিছু নয়। অন্তত রাতের দিকে শিশির পড়লে এই রান তুলতে অসুবিধা হবে না।
এদিকে, ২০ ম্যাচ পর শনিবার বিশাখাপত্তনমে টস জেতেন ভারত অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। প্রত্যাশিতভাবেই তিনি প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন। প্রথমে বল করতে গিয়ে শুরুটা ভালোই হয় টিম ইন্ডিয়ার। প্রথম ওভারেই অর্শদীপের বলে ফেরেন ওপেনার রিকেলটন। তারপরই অবশ্য পালটা মার শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। অধিনায়ক বাভুমা এবং ডি’কক ১১২ রানের জুটি বাঁধলেন দ্বিতীয় উইকেটে। বাভুমা জাডেজার বলে বিরাটের হাতে ক্যাচ তুলে ৪৮ রানে আউট হন। এর পরও ব্রিৎজকের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ডি’কক। সেই জুটিও তোলে ৬৪ রান। ততক্ষণে ৬ রানের কাছাকাছি গড়। শতরান করে ফেলেছেন ডি’কক। দেখে মনে হচ্ছিল অন্তত সাড়ে তিনশো পেরোবে দক্ষিণ আফ্রিকা।
তারপরই প্রত্যাঘাত প্রসিদ্ধর। এক ওভারে তিনি ফিরিয়ে দিলেন ডি’কক এবং মার্করামকে। দুজনেই প্রোটিয়াস ব্যাটিংয়ের স্তম্ভ। ফলে কোমর ভেঙে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার। এরপর শুরু হয় কুলদীপের ম্যাজিক। একে একে তিনি আউট করে দেন ব্রেভিস, জানসেন, বশ এবং এনগিডিকে। এর মধ্যে এক ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই বিধ্বংসী ব্যাটার ব্রেভিস ও জানসেনকে ফেরান তিনি। শেষ পর্যন্ত প্রোটিয়ারা অলআউট হয়ে যায় ২৭০ রানে। প্রসিদ্ধা এবং কুলদীপ দুজনেই চারটি করে উইকেট পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *