মঙ্গলে পথে নেমেছিলেন, বুধেই ‘এনুমারেশন ফর্ম’ দিতে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছে গেলেন বিএলও

রাজন্যা নিউজ ব্যুরো কলকাতা:

বাংলার ভোটাধিকার রক্ষার্থে মহামিছিলে হেঁটেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছে গেলেন নির্বাচন কমিশনের বুথ স্তরের অফিসার (বিএলও)। মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতে বিএলওর কাছ থেকে নিলেন এসআইআরের ফর্ম। সূত্রের খবর, বুধবার সকালে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের হরিশ মুখার্জি রোডের মিত্র ইনস্টিটিউশন স্কুলের ৭৭ নম্বর বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক অমিত কুমার রায় মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে যান।

এদিন হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে ঢুকতেই আগন্তুক অমিতের পথ আটকান পুলিশের কর্তব্যরত আধিকারিকেরা। তাঁরা জানতে চান, ‘‘কোথায় যাচ্ছেন?’’ জবাবে বিএলও জানান, ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের নির্বাচকদের ‘এনুমারেশন ফর্ম’ দিতে যাচ্ছেন তিনি। নিজের বিএলও পরিচয়পত্রটিও দেখান অমিত। এর পর মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়। সেখান থেকেই নির্দেশ আসে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে পাঠানো হোক অমিতকে। বিএলও অমিত সেখানে পৌঁছোতেই পুলিশ আধিকারিকেরা জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভিতরে যেতে পারবেন না তিনি। তাই ‘এনুমারেশন ফর্ম’ তাঁদের কাছেই দিতে হবে।

পুলিশ আধিকারিকদের কথা শুনে অসম্মত হন বিএলও অমিত। পাল্টা জানিয়ে দেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়মানুযায়ী, ‘এনুমারেশন ফর্ম’ কেবলমাত্র ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিকেই দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক জন ভোটার। তাই তিনি মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া আর কারও হাতে ‘এনুমারেশন ফর্ম’ দেবেন না বলে জানান অমিত।

এই বিষয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বেশ কিছু ক্ষণ বাক্যবিনিময় হয়। বিএলওর নাছোড় অবস্থান দেখে অবশেষে ক’জন পুলিশ আধিকারিক মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যান। কিছু ক্ষণ পর ফিরে এসে তাঁরাই বিএলও অমিতকে বাড়ির ভিতরে আসতে বলেন। এ ক্ষেত্রে অবশ্য একটি শর্ত পালন করতে হয় বিএলও-কে।

পুলিশকর্তাদের কথা মতো নিজের ব্যাগ ও মোবাইলটি মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের কাছে জমা রেখে যান তিনি। সূত্রের খবর, সেই সময় ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। বিএলও অমিত তাঁর হাতে ফর্ম দিয়ে জানান, মুখ্যমন্ত্রী ফর্ম পূরণ করে রাখলে, তাঁর অফিস থেকে যেন তাঁকে যেন জানানো হয়, তাহলেই তিনি পূরণ করা ‘এনমারেশন ফর্ম’টি এসে নিয়ে যাবেন। মুখ্যমন্ত্রী বিএলওকে জানিয়ে দেন, ফর্ম পূরণ করা হলে তাঁর দফতরের তরফে তা ফোন করে জানিয়ে দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *