চোখের সামনে জলে ডুবে গেল মাটির ঘর, মুখোমুখি সাগরদ্বীপের সমীর
কল্যাণ অধিকারী এডিটর রাজন্যা নিউজ
নোনা জলে চারিদিক থৈ থৈ করছে। পুকুরের মরা মাছের দুর্গন্ধে বমি পাচ্ছে। খেতে পারছি না। চোখের সামনে আজকের বিভীষিকা ভেসে বেড়াচ্ছে। ভাবতে ও ভুলতে পারছিনা। যশ বা ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আমি ও আমার পরিবার, পাড়া প্রতিবেশী প্রায় সাগরদ্বীপের সবাই সম্পূর্ণ ক্ষতির স্বীকার। জানালেন সমীর।
ইয়াস-দুর্যোগ মাটির বাড়ি সম্পূর্ণ জলের তলায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তান্ডব ও আতঙ্কের কয়েকঘন্টার কথা জানিয়েছেন সাগরদ্বীপ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা’র বাসিন্দা সমীর জানা। ওঁর কথায় সমস্তটা দেখে মনে হচ্ছে, জীবনের একটা মস্ত লড়াইয়ের দিন কাটালাম। মন একদম ভালো নেই। কিভাবেই বা থাকে ভালো ? বাড়ি সম্পূর্ণ জলের তলায়। আমাদের মাটির বাড়ি ছিল, বিকেলে জল নেমে যাওয়ার পরে বাড়ির ভিতরে ঢুকতে পারিনি। কাদা হয়ে গেছে, মাটির দেওয়াল বসে গেছে, যেকোন মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। সবাই ভালো থাকবেন। গত বছর ঝড়ে বাড়ির প্রায় পুরোটাই ক্ষতি, এ বছর আবার হল। এবার পুরো শেষ!
বুলবুল হোক বা আমপান অথবা আজকের ইয়াস প্রতিটি মুহূর্তে জীবনের পাতা বারেবারে ধুয়ে যায়। জীবন এখানে জোয়ার-ভাটা আর লড়াইয়ের। নরম রোদে ঝাপসা থাকে বছরের প্রতিটি মুহূর্তের কথা। বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় জন্ম নিলে মনে পরে সুন্দরবন সহ গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনা’র কথা। পাকাপোক্ত বাঁধ না হলে সুন্দরবন বদলাবে না। সাগরদ্বীপও একি থেকে যাবে। মোবাইল নেটওয়ার্ক এখনও ‘ধন ধনা ধন’ হয়নি। ঘূর্ণিঝড় ও জোয়ার সবেতেই গ্রাম ভেসে যায়। এ কথা একা সমীরের নয় গোটা দক্ষিণ ৪ পরগনা ও সুন্দরবনের।
ঝড় ও নোনা জলে বিপন্নতায় ত্রস্ত জীবন, বাড়িতে কি অবস্থা এখন ?
সমীর বলেন, প্রথমেই সবাইকে জানাই যে, নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে কারোর সাথে সে ভাবে যোগাযোগ করতে পারিনি। সত্যি বলতে ভালো নেই। বাড়ি সম্পূর্ণ জলের তলায়। ঘর-দোর জল আর কাদায় একাকার। মাটির দেওয়াল সে আর কতটা ভার সামলাবে। যেকোন মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। যেটুকু সম্বল ছিল তাও মাটিতে মিশে যাবার জোগার। নোনা জলে ত্বকের ক্ষতির সম্ভাবনা। মাছ চাষ ক্ষতির সম্মুখীন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতে থাকতে হয়।
বছরের পর বছর সেই একি চিত্র বদলাবে কবে ?
সমীর বলেন, এখানকার মানুষদের সমস্যার মধ্য দিয়েই চলতে হয়। বছরে এক একটা ঝড় সবকিছু তছনছ করে দিয়ে যায়। মুড়িগঙ্গায় সেতু না হওয়ায় জীবনের গতি এমনিতেই কম। তারপর ঝড় এসে সমস্ত ধ্বংস করে দিচ্ছে। গতবছর ঝড়ে বাড়ির প্রায় পুরোটাই ক্ষতি, গত বছরের পর আবার এবছর দৃশ্য বদলাল না। চোখের সামনে আজকের বিভীষিকা ভেসে বেড়াচ্ছে। ভাবতে ও ভুলতে পারছিনা। জানিনা কিভাবে এই অপূরণীয় ক্ষতি সরিয়ে জীবনে বাঁচবে !

