২০২২ টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগে বয়স ছাড়ের আবেদন খারিজ কোর্টে

রাজন্যা নিউজ, কলকাতা

২০২২ সালে টেট উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বয়স ছাড় দেওয়ার আবেদন খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। ২০২৫ সালের নতুন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে বয়সসীমা শিথিল করার দাবিতে প্রার্থীরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু স্পষ্ট জানান, এই মুহূর্তে আইনি কাঠামোর মধ্যে দাঁড়িয়ে এ ধরনের ছাড় দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।
আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায় যুক্তি দেন, এর আগেও আদালত ২০১৭ সালের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সের নিয়ম শিথিল করে আবেদন করার অনুমতি দিয়েছিল। তাই ২০২২ সালের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হওয়া উচিত বলে দাবি তোলেন তিনি।
কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে জানানো হয়, ২০১৬ সালের যে রুল অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়, সেই বিধি কেউ চ্যালেঞ্জ করেনি। ফলে আদালত সেই রুলে হস্তক্ষেপের ক্ষমতা রাখে না। পর্ষদের বক্তব্য, বিধির বাইরে গিয়ে বয়স ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।
বিচারপতি বসু পর্যবেক্ষণ, ‘তৎকালীন একক বেঞ্চে পর্ষদের অবস্থান আলাদা ছিল। বর্তমান মামলার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তার থেকে ভিন্ন।’ সেই কারণেই পূর্ববর্তী মামলার দৃষ্টান্ত এখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয় বলেও তাঁর মন্তব্য।
এর আগে প্রাইমারি টেট প্রশ্ন ভুল মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে স্বস্তি পেয়েছে পর্ষদ। ২০১৭ ও ২০২২ টেটের প্রশ্ন ভুল মামলায় বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টে রয়েছে, শুধু মাত্র ১ টি প্রশ্ন ভুল রয়েছে। অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেই দাবি করেছে তারা।
পরীক্ষার্থীদের দাবি ছিল, ২০১৭ সালের টেটে ২৩টি এবং ২০২২ সালের টেটে ২৪টি-মোট ৪৭টি প্রশ্ন ভুল ছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই হাইকোর্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। সেই দুই কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ল আদালতে। আর সেই রিপোর্ট বলছে, প্রশ্নপত্রে এতগুলি ভুলের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
বিশেষজ্ঞ কমিটির পর্যালোচনায় জানা গেছে, ২০১৭ সালের টেট পরীক্ষায় মাত্র ১টি প্রশ্নে ভুল পাওয়া গেছে। আর ২০২২ সালের টেট প্রশ্নপত্রে একটিও ভুল নেই। আদালতে জমা দেওয়া রিপোর্টে এই তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে দুই কমিটি। ফলে যেসব পরীক্ষার্থী অনেকগুলো ভুল প্রশ্নের দাবি তুলেছিলেন, তাঁদের অভিযোগকে কার্যত নাকচ করল বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *